
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যেখানে মসজিদের ভেতরে ঢুকে হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অন্তত তিনজন গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন, যা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর গয়েশপুর ইউনিয়নের চরজোকা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষের এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোক্তার শেখ, দুলাল মণ্ডল এবং রেজাউল শেখ। এদের মধ্যে মোক্তার শেখের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরজোকা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে আছেন সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান দুলু।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে। লাল্টু শেখ নামে এক কৃষককে মাঠে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
এ ঘটনার জেরে দুপুর দেড়টার দিকে সাচ্চু গ্রুপের সমর্থকরা চরজোকা পশ্চিমপাড়া বাইতুল মুকাররম জামে মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুলু সমর্থিত লোকজন মসজিদের ভেতরে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলাকারীরা মসজিদের একটি অংশের দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়।
তবে মসজিদে ঢুকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিনহাজুল ইসলাম সাচ্চু। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের লোকজনই আগে তাদের ওপর হামলা চালায় এবং সংঘর্ষের সময় আহত কেউ মসজিদে ঢুকে থাকতে পারেন।
অন্যদিকে, হাবিবুর রহমান দুলু অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মসজিদে ঢুকে তার সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
শ্রীপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সামাজিক বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন