
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে গত রোববারের (১২ এপ্রিল) একটি ঘটনা এখন ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’-এ পরিণত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে আটক আকুব্বর মোল্যার মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট : পরিবারের দাবি, গভীর ঘুমে থাকা আকুব্বরকে কোনো সুযোগ না দিয়েই হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আটকের পর ধস্তাধস্তির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
দৃষ্টি আকর্ষণকারী কিছু বিষয় ও হাতকড়া পরা ছবি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আকুব্বর মোল্যাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা তার পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জোরালো করছে।
পাল্টাপাল্টি বক্তব্য : ডিএনসি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করলেও পরিবারের অভিযোগ এটি একটি হত্যাকান্ড।
নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ : নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। বেলা ১১টার দিকে কিছু লোকজন এসে তাকে বিছানা থেকে তোলে। কোনো কথা ছাড়াই তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় এবং মারধর করা হয়। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”
প্রশাসনের বক্তব্য : অভিযানের নেতৃত্বদানকারী, মাগুরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক শাহারা ইয়াসমিন বলেন, “আকুব্বর মোল্যার ঘর তল্লাশি করে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারা যান।”
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আকুব্বর মোল্যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। তবে অভিযানের সময় আসলে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
জনরোষ : আকুব্বর মোল্যার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযানকারী দলকে ধাওয়ার করে । এ সময় কয়েকজন আহত হন।
কেন এই ধোঁয়াশা? পরিষ্কার হওয়া জরুরি : আইন অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার বা বিচার করার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে, কিন্তু হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে প্রশাসনের দাবি 'অসুস্থতাজনিত মৃত্যু', অন্যদিকে স্বজনদের 'পিটিয়ে হত্যার' অভিযোগ-এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
মাগুরা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ময়নাতদন্তের স্বচ্ছ রিপোর্ট এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। দোষী যেই হোক, আইনের আওতায় আসা জরুরি।
মন্তব্য করুন