বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

মহম্মদপুরে আকুব্বর মোল্যার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত, তদন্ত দাবি

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর (মাগুরা)
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পিএম
মহম্মদপুরে আকুব্বর মোল্যার মৃত্যু ঘিরে রহস্য ঘনীভূত, তদন্ত দাবি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামে গত রোববারের (১২ এপ্রিল) একটি ঘটনা এখন ‘টক অব দ্য ডিস্ট্রিক্ট’-এ পরিণত হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) অভিযানে আটক আকুব্বর মোল্যার মৃত্যুকে ঘিরে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

ঘটনার প্রেক্ষাপট : পরিবারের দাবি, গভীর ঘুমে থাকা আকুব্বরকে কোনো সুযোগ না দিয়েই হাতকড়া পরিয়ে শারীরিক নির্যাতন করা হয়, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আটকের পর ধস্তাধস্তির সময় অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

দৃষ্টি আকর্ষণকারী কিছু বিষয় ও হাতকড়া পরা ছবি : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে আকুব্বর মোল্যাকে হাতকড়া পরা অবস্থায় দেখা যায়, যা তার পরিবারের নির্যাতনের অভিযোগকে সাধারণ মানুষের কাছে আরও জোরালো করছে।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য : ডিএনসি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধারের দাবি করলেও পরিবারের অভিযোগ এটি একটি হত্যাকান্ড।

নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ : নিহতের স্ত্রী জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। বেলা ১১টার দিকে কিছু লোকজন এসে তাকে বিছানা থেকে তোলে। কোনো কথা ছাড়াই তাকে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় এবং মারধর করা হয়। মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।”

প্রশাসনের বক্তব্য : অভিযানের নেতৃত্বদানকারী, মাগুরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক শাহারা ইয়াসমিন বলেন, “আকুব্বর মোল্যার ঘর তল্লাশি করে ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী তাকে আটক করে হাতকড়া পরানো হলে তিনি হঠাৎ অসুস্থ বোধ করেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি মারা যান।”

মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘আকুব্বর মোল্যার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মাদক সংক্রান্ত চারটি মামলা রয়েছে। তবে অভিযানের সময় আসলে কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

জনরোষ : আকুব্বর মোল্যার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযানকারী দলকে ধাওয়ার করে । এ সময় কয়েকজন আহত হন।

কেন এই ধোঁয়াশা? পরিষ্কার হওয়া জরুরি : আইন অনুযায়ী অপরাধীকে গ্রেফতার বা বিচার করার অধিকার রাষ্ট্রের রয়েছে, কিন্তু হেফাজতে থাকাকালীন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে প্রশাসনের দাবি 'অসুস্থতাজনিত মৃত্যু', অন্যদিকে স্বজনদের 'পিটিয়ে হত্যার' অভিযোগ-এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থানের সত্যতা নিশ্চিত করতে একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি।

মাগুরা জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ময়নাতদন্তের স্বচ্ছ রিপোর্ট এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক। দোষী যেই হোক, আইনের আওতায় আসা জরুরি।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ, দান কমাচ্ছেন ভক্তরা

আইভরিকোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, প্রতিপক্ষ এবার ব্রাজিল

৮৬ মিনিটে হলান্ডের ম্যাজিক, এগিয়ে গেল নরওয়ে

দিয়ালোর জাদুকরী গোল / নরওয়ের বিপক্ষে আইভরিকোস্টের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

নুসার জাদুকরী গোল, বিরতির আগেই লিড নিল নরওয়ে

সবার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান মুয়াজ্জিন, অথচ তিনিই ছিলেন হত্যাকারী

ঝিনাইদহে তিন ফসলি জমিতে অটোরাইস মিল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবিতে টানা আন্দোলন, দ্বিতীয় দিনে রোড ব্লক কর্মসূচি

গোবিন্দগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঝিকরগাছা অফিসার্স ক্লাবের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন

নতুন কর ছাড়াই ঝিকরগাছা পৌরসভার ৯৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

মোরেলগঞ্জে ৫ বছর ধরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ছাপড়া ঘরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মণিরামপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মণিরামপুরে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি

মণিরামপুরে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার বীজ, সার ও চারা বিতরণ

শালিখায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যশোরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় দুইজন আটক

যশোরের মহিদুল্লাহকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ

মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে জীবননগরে বিএনপি সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

X