
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের সুযোগ নিয়ে অবৈধ মজুত বা পাচারের চেষ্টার অভিযোগে মাগুরার মহম্মদপুরে বিপুল পরিমাণ ডিজেলসহ একটি ফুয়েল ট্যাঙ্কার (তেলবাহী লরি) জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার (৮ এপৃল) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা সদরের চর জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। পরে ডিজেলসহ একটি ফুয়েল ট্যাঙ্কার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় লরি চালককে আটক করেছে পুলিশে।
সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গোপন সংবাদ আসে যে-একটি চক্র প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি (ডিজেল) তেল পাচার করছে। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ: শাহনুর জামান তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান চলাকালে চর জাঙ্গালিয়া এলাকায় ঢাকা মেট্রো-ঢ-৪৪-০২৬৮ নম্বর প্লেটধারী ‘মেসার্স ফারুক ব্রাদার্স’ লেখা একটি ফুয়েল ট্যাঙ্কার আটক করা হয়। সেটিতে পাঁচ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইউএনও মুহ: শাহনুর জামান জব্দকৃত তেল ও গাড়িটি হেফাজতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ সময় লরি চালক সোহরাবকে (৪৩) আটক করা হয়। সোহরাব উপজেলার শ্যামনগর গ্রামের আবু সাঈদের ছেলে। জব্দকৃত লরিটির মালিক মহম্মদপুর বাজারের ব্যবসায়ী ও ‘বাবুল ট্রেডার্স’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মোল্লার বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৯ এপৃল) সকালে মহম্মদপুর থানার এসআই রেজাউল কবির বাদী হয়ে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫(১) ধারায় চারজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নম্বর: ১০)। আসামিরা হলেন-লরি চালক সোহরাব, বাবুল ট্রেডার্সের মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মোল্লা, তার ছেলে আরমান এবং স্থানীয় একটি ইটভাটার মালিক জাকির। এরমধ্যে আটক গাড়ি চালক সোহরাবকে এদিন মাগুরা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
জব্দকৃত তেলের মালিক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল মোল্লা বলেন, “এই ডিজেল অবৈধ নয়। ইটভাটা ও এসকেভেটরের (ভেকু) ব্যবহারের জন্য আমরা নিয়ম মেনেই খুলনা থেকে তেল এনেছি। আমাদের কাছে বৈধ চালানও আছে। এরপরও কেন তেলসহ গাড়িটি জব্দ করা হলো, তা আমার বোধগম্য নয়।”
মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ‘জ্বালানি তেল জব্দের ঘটনায় মামলা রুজুু হয়েছে। ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং মামলার অন্য আসামিদের আটকের জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।’
কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ: শাহনুর জামান বলেন, “কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে, চলমান ডিজেল সংকট মোকাবেলায় এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো ধরনের কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না। অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
মন্তব্য করুন