
শীতের স্নিগ্ধ সকালে রূপসী বাংলার প্রকৃতি এখন সেজেছে এক অনন্য সাজে। দিগন্ত বিস্তৃত মাঠজুড়ে যেন কেউ বিছিয়ে দিয়েছে হলুদের বিশাল গালিচা। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের প্রতিটি প্রান্তর এখন সরিষা ফুলের মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারা চারিদিক।
এই দৃশ্য কেবল প্রকৃতির সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি স্থানীয় কৃষকদের চোখে এক রঙিন স্বপ্ন। এ বছর অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো বীজ বপনের ফলে মহম্মদপুরে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষিরা। উৎপাদন খরচ কম এবং স্বল্প সময়ে ভালো মুনাফা পাওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহ বাড়ছে এ অঞ্চলের মানুষের।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মহম্মদপুরের ৮টি ইউনিয়নে মোট ২৭ হাজার ৮শ’ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে। মাঠে মাঠে এখন হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের সরিষার সমারোহ। ফলন বাড়াতে তারা এ বছর বারি-১৪ এবং স্থানীয় টরি-৭ জাতের উচ্চফলনশীল সনিষা আবাদ করছেন। স্বল্প ব্যয়ে এবং অল্প সময়ে ঘরে তোলা যায় বারি-১৪ ও টরি-৭ জাতের সরিষা। কৃষি বিভাগ এ বছর উপজেলার দুই হাজার ৯শ’ কৃষককে প্রণোদনা দিয়েছে।
এসব কৃষক বিনামূল্যে সার ও বীজ পেয়েছেন। আগাম চাষ করা জমিগুলোর সরিষা অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ঘরে তুলতে শুরু করবেন কৃষক। কিছুটা বিলম্বে চাষকৃত ক্ষেতগুলো ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে, যা দেখে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে হাসির ঝিলিক।
উপজেলার মৌলী কৃষক শমশের আলী বলেন, ‘বিগত কয়েক বছর ধরে সরিষার দাম বেশ ভালো পাচ্ছি। লাভ বেশি হওয়ায় এবার এক একর জমিতে আবাদ করেছি। আশা করছি আবহাওয়া ঠিক থাকলে বড় ধরনের মুনাফা হবে।
পাল্লা গ্রামের কৃষক ইনছার মোল্যার মতে, সরিষা চাষে খরচ ও পরিশ্রম দুই-ই কম। মাত্র ৭০ থেকে ৮০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তোলা যায়। এরপর ওই জমিতেই আবার বোরো ধানের আবাদ করা সম্ভব হয়, যা কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ থাকছে।
প্রকৃতির রূপ আর কৃষকের ঘাম, এ দুইয়ের সমন্বয়ে মহম্মদপুরের মাঠগুলো এখন যেন এক জীবন্ত তৈলচিত্র। ভোজ্য তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে এই সরিষা আবাদ জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি অফিসার পিযুষ রায় বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে সরিষার আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এবং সরকারি প্রণোদনা থাকায় কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। ঠিকমতো ফসল ঘরে তুলতে পারলে লাভবান হবেন কৃষক।’
মন্তব্য করুন