
অভিভাবকদের টার্গেট করে অত্যন্ত সুক্ষ্ম ও ভয়ংকর প্রতারণা চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সন্তানের বিপদ বা মাদকসহ আটকের কথা বলে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি।
এই চক্রগুলোর প্রধান কিছু কৌশল অবলম্বন করেছে। যে অভিভাবকের কাছে ফোন করা হচ্ছে একজনকে তার সন্তান সাজিয়ে সেই অভিভাবকের কাছে কান্না জড়িত কন্ঠে বলছে আব্বু আমাকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট আছে মামলা হওয়ার আগেই টাকা পয়সা দিয়ে আমাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
যিনি অভিভাবকের কাছে ফোন দিচ্ছেন তিনি ডিবির এসআই পরিচয় দিচ্ছেন এবং সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট আছে বলে জানানো হচ্ছে। ফোনে কথা বলার সময় বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য পুলিশের গাড়ির হুইসেল বাজানো হচ্ছে যাতে সেই অভিভাবক বুঝতে পারেন যে তার সন্তানকে পুলিশের গাড়িতে তোলা হচ্ছে।
এদিকে আবার সেই এসআই পরিচয়দানকারী ব্যক্তিটি বিষয়টি অভিভাবকের গোপন রাখার কথা বলে বিকাশের মাধ্যমে জরিমানার টাকা পাঠাতে বলা হচ্ছে।
সম্প্রতি কপিলমুনিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষকের কাছ থেকে একই পদ্ধতিতে হাতিয়ে নিয়েছেন ৩৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ এমনই এক ঘটনা ঘটেছে আমাদের কপিলমুনি প্রতিনিধির সাথে। ৯ই মে বিকাল ৫ টা ৪৬ মিনিটে ০১৬৩৫৪৯৮০৩৪ নম্বর থেকে ডিবি অফিসার ফারুক পরিচয় দানকারী ওই ব্যক্তিটি ফোন করে জানান আপনার সন্তান মাদকসহ ধরা পড়েছে এখন সে পুলিশের গাড়িতে এই কথাটি বলার সময় পুলিশের গাড়ির হুইসেল বাজানো হচ্ছিল।
এক পর্যায়ে সেই ডিবি পরিচয়দানকারী ব্যক্তিটি বলেন ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের সাথে কথা বলেন, এখনই জরিমানার ৩৫ হাজার টাকা ০১৬০৭৪৩৮৩৫১ নং বিকাশের মাধ্যমে পাঠালে আপনার সন্তানের নামে মামলা হবে না তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
কিন্তু আমাদের প্রতিনিধির কিছুটা সন্দেহ হলে মামলা করার কথা সাব জানিয়ে দেন। মামলা করার কথা শুনে ফোন কেটে দেয়। এরপর থেকে ওই নাম্বারে ফোন করে বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
তবে একটি সূত্র বলছে এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন স্কুল কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নাম ঠিকানা মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এই প্রতারক চক্রের কাছে সরবরাহ করছে।
মন্তব্য করুন