
খুলনার তেরখাদা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম নুর আলম (৫৫)। তিনি ওই এলাকার ইকরাম শেখের ছেলে এবং পেশায় কৃষক। তিনি বিএনপির সাইফুল গ্রুপের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে সাইফুল গ্রুপের লোকজন ধান কাটতে বিলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। দীর্ঘদিনের বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে মুহূর্তেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, এতে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ব্যাপক মারামারির ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন নুর আলম। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হিজমুল্লাহ সোহেল রানা (৪০), মুসা শেখ, মফিজুর রহমান (৪৫), আলী হুসাইনসহ অন্তত ছয়জন। তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অ্যাডভোকেট শহিদুল ইসলাম সমর্থিত গ্রুপের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। তবে এ বিষয়ে অপর পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তেরখাদা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক চৌধুরী ফখরুল ইসলাম বুলু বলেন, দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, বিষয়টি তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তেরখাদা থানার ওসি মো. শহিদুল্লাহ জানান, পূর্বের বিরোধের জেরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
মন্তব্য করুন