
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) আইন বিভাগের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী মৌমিতা হালদারের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। সাধারণ শিক্ষার্থীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মৌমিতা হালদার (২৬) খুলনা মহানগরীর সদর থানার মুন্সিপাড়া এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার গ্রামের বাড়ি ডুমুরিয়া উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের রুস্তমপুর গ্রামে।
গত ৩০ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে জেলা পরিষদ ভবনের সামনে একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে, তিনি রিকশাযোগে ডাকবাংলা মোড় থেকে যাওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির প্রাইভেট কার রিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ৭টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর ৩০ মার্চ মধ্যরাতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করেন। পরদিন ৩১ মার্চ দুপুর ১টায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। সর্বশেষ ২ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদি চত্বরে সমবেত হন। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, একটি প্রাইভেট কার এসে কাউকে মেরে দিয়ে চলে যাবে এটি কেউ জানবে না, এটি কেউ বুঝবে না, এমনটি আমি বিশ্বাস করি না।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। বর্তমানে এখন তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান পালন করছেন। আর দাবি আদায় হওয়া না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া শিক্ষার্থীরা প্রশাসন না জোকার এমন স্লোগানও দেন। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, মৌমিতাকে ধাক্কা দেওয়া প্রাইভেট কারটি এখনও শনাক্ত করা হয়নি এবং ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ২২ ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী প্রশাসনকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন। তাদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল ৭২ ঘন্টার মধ্যে প্রাইভেট কারটিকে শনাক্ত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা আর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করা। শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
মন্তব্য করুন