
রমজান ঘিরে খুলনা মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রেশমি জিলাপির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এর সঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে সমান কদর ধরে রেখেছে বিখ্যাত ‘নানা হালিম’। নগরীর সাউথ সেন্ট্রাল রোডে পাইওনিয়ার মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সামনে প্রতি বছর রমজানে বিক্রি হয় এই হালিম, যা কিনতে দুপুর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় জমতে শুরু করে।
দুপুরের পর থেকে শুরু হয় বিক্রি, আর সময় যত গড়ায় ততই বাড়তে থাকে রেশমি জিলাপি ও নানা হালিমের ক্রেতাসমাগম।
‘নানা হালিম’-এর স্বত্বাধিকারী হজরত আলী, যিনি ‘নানা’ নামে পরিচিত, জানান—তিনি একসময় সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন এবং মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। স্বাধীনতার পর চাকরিতে ফিরে না গিয়ে বাড়িতে চলে আসেন। পরে সংসারের প্রয়োজন মেটাতে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরির পাশাপাশি ভ্যানে করে হালিম বিক্রি শুরু করেন। হালিমের সুনাম ছড়িয়ে পড়লে ১৯৯৩ সাল থেকে স্থায়ীভাবে এ ব্যবসা শুরু করেন। বয়সজনিত কারণে এখন তিনি শুধু রমজান মাসেই হালিম বিক্রি করেন।
খাবারের মান বজায় রাখতে এখনও নিজ হাতেই হালিম রান্না করেন হজরত আলী। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও হালিমের দাম বাড়ানো হয়নি। বিভিন্ন আকারের মাটির পাত্রে ১০০ টাকা থেকে ১,২০০ টাকা পর্যন্ত দামে হালিম পাওয়া যায়। তার সঙ্গে সাতজন বাবুর্চিসহ মোট ১১ জন কাজ করেন।
হজরত আলীর সহকারী বাবুর্চি মো. হাবিব জানান, বছরের অন্য সময়ে তিনি বিভিন্ন স্থানে রান্নার কাজ করেন। তবে গত ২৬ বছর ধরে প্রতি রমজানেই তিনি নানার দোকানে কাজ করছেন।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা মোহসীন রেজা বলেন, প্রতিবছরই তিনি নানার হালিম কেনেন। তার ভাষায়, ইফতারে হালিম না হলে যেন তৃপ্তি মেলে না। পরিবারের সবারই এই হালিম পছন্দ। তবে হালিম কিনতে প্রায়ই আগে থেকে সিরিয়াল দিতে হয়, না হলে পাওয়া যায় না। হালিমের পাশাপাশি এখানকার রেশমি জিলাপিও বেশ সুস্বাদু।
পাইওনিয়ার কলেজের শিক্ষক রোকনুজ্জামান বলেন, ইফতারের জন্য মিষ্টি খাবার হিসেবে রেশমি জিলাপির সঙ্গে হালিম নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। তার মতে, নানার হাতে যেন জাদু আছে—এখানকার সব ইফতার সামগ্রীই মানসম্মত।
মন্তব্য করুন