
খুলনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদরের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য উঠে এসেছে পুলিশি তদন্তে। প্রাথমিকভাবে রাস্তার ওপর হামলার অভিযোগ উঠলেও, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) জানিয়েছে, আসল ঘটনা ঘটেছে সোনাডাঙ্গার ‘মুক্তা হাউস’ নামক এক ব্যক্তিগত বাসায়।
পুলিশি অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোতালেব শিকদর দুই মাস ধরে তাঁর নারী সঙ্গী তন্বীর সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি বিদেশি মদের খালি বোতল, পিস্তলের গুলির খোসা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলামত উদ্ধার হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো প্রভাব নেই।
কেএমপি আরও জানিয়েছে, মোতালেব শিকদর স্থানীয় সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটে জড়িত ছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঘটনার আগের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুজন ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, চাঁদাবাজির টাকার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে সহযোগীরাই তাঁর ওপর গুলি চালিয়েছে।
ঘরের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার জানিয়েছেন, তন্বী নিজেকে এনজিও কর্মী পরিচয় দিয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে নিয়মিত বহিরাগত পুরুষের যাতায়াত ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় চলতি মাসেই বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে মোতালেব শিকদর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এবং তিনি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত। পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ বিভাগ) তাজুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, প্রাথমিক তদন্তে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের বিশেষ টিম কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন