সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

ঐতিহাসিক খুলনা মুক্ত দিবস আজ

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৩৬ এএম
ঐতিহাসিক খুলনা মুক্ত দিবস আজ ¦ ফাইল ফটো

আজ বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) ঐতিহাসিক খুলনা মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় খুলনা জেলা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রে যুক্ত হয় শত্রুমুক্ত খুলনা।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিজয় নিশ্চিত হলেও খুলনা শত্রুমুক্ত হয় একদিন পর, ১৭ ডিসেম্বর। ওইদিন পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দিয়ে খুলনায় যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করেন।

১৬ ডিসেম্বর রাতেও খুলনা শহর কেঁপে ওঠে ট্যাংক, কামান, বোমা ও গোলাবারুদের আঘাতে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় শিরোমণি, গল্লামারী রেডিও স্টেশন (বর্তমান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা), লায়ন্স স্কুল, বয়রার পোস্ট মাস্টার জেনারেলের কলোনি, ৭ নম্বর জেটি, নূরনগর ওয়াপদা ভবন, গোয়ালপাড়া, দৌলতপুর, টুটপাড়া ও নিউ ফায়ার ব্রিগেড স্টেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

গল্লামারী এলাকায় খুলনার প্রবেশপথে সংঘর্ষে ওই রাতে দুজন মুক্তিযোদ্ধা মারাত্মকভাবে আহত হন।

১৭ ডিসেম্বর ভোরে বটিয়াঘাটা ক্যাম্প থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি লঞ্চ রূপসা নদী হয়ে শিপইয়ার্ড এলাকায় পৌঁছালে সেখানে ওঁত পেতে থাকা পাক সেনারা হামলা চালায়। উভয় পক্ষের গুলিবিনিময়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন এবং ১৬ জন আহত হন। এই যুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীরও কয়েকজন সেনা নিহত ও আহত হয়।

সব বাধা অতিক্রম করে ১৭ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধারা খুলনা শহরে প্রবেশ শুরু করেন। খুলনা সার্কিট হাউস দখলের পর মেজর জয়নুল আবেদীন ও রহমত উল্লাহ দাদু যৌথভাবে সেখানে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করেন। একই সঙ্গে হাদিস পার্কে মুক্তিযোদ্ধা স ম বাবর আলী, আবুল কালাম আজাদ, রেজাউল করিম ও গাজী রফিকুল ইসলাম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মিত্রবাহিনী শহরে প্রবেশের প্রায় ৮ ঘণ্টা আগেই পাক বাহিনী মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়।

নয় নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর এম এ জলিল, ক্যাপ্টেন হুদা ও ডা. শাজাহান মোস্তফাসহ মুক্তিযুদ্ধের শীর্ষ নেতারা খালিশপুরে মিত্রবাহিনীর সদর দপ্তরে গিয়ে জেনারেল দলবীর সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে ব্রিগেডিয়ার হায়াত খান আত্মসমর্পণে সম্মতি জানিয়ে তার ব্রিগেড মেজর ফিরোজকে নির্দেশ দেন— সব সৈন্যকে অস্ত্র সমর্পণের নির্দেশ দাও। যুদ্ধ শেষ।

এরপর খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল এলাকা থেকে পাক বাহিনী সার্কিট হাউস ময়দানের দিকে যাত্রা করে।

১৭ ডিসেম্বর সার্কিট হাউস ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আবাল-বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই উল্লাসে ফেটে পড়ে। চারদিক থেকে ধ্বনিত হতে থাকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। খুলনার আকাশে-বাতাসে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা।

লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সেই বিজয়ের পতাকা আজও খুলনার মুক্ত বাতাসে গর্বের সঙ্গে পতপত করে উড়ছে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে মাইকেল মধুসূদনের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, সংবাদ সম্মেলনে মারধরের অভিযোগ

যশোরে পৃথক অভিযানে মাদক ও চাকুসহ তিনজন আটক

যশোরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

হেরোইনের মামলায় বেনাপোলের জামাল হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু

পলাশবাড়ীতে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

শৈলকূপায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

যশোর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের সন্দেহে একজন আটক

চৌগাছায় ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষক আহত

বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার দাবি

শৈলকুপায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত

হাটহাজারীতে ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২

X