
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক জটিলতায় স্থবির হয়ে পড়েছে আর্থিক খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন বদলী জনিত কারণে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। অথচ দীর্ঘ এক মাস পার হলেও নব যোগদানকারী কর্মকর্তা ডাঃ এ এম আশরাফুল আলমের কাছে দায়িত্ব ও ক্ষমতা হস্তান্তর করেননি ফলে এমন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে হাসপাতালের দৈনন্দিন আর্থিক কার্যক্রমে চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সম্প্রতি ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন বদলির আদেশ জারি হওয়ার পর নতুন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডাঃ এ এম আশরাফুল আলম যোগদান করেন। তবে এখন পর্যন্ত সাবেক কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় আর্থিক খাতের বিভিন্ন ফাইল, বিল-ভাউচার ও প্রশাসনিক অনুমোদনের কাজ আটকে আছে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বিভিন্ন বিল পরিশোধ, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ক্রয়, অফিস পরিচালনাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী জানান, এ হাসপাতালে একজন নতুন কর্মকর্তা যোগদান করেছেন, কিন্তু তিনি পুরোপুরি প্রশাসনিক ক্ষমতা না পাওয়ায় সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। অন্যদিকে বদলী হওয়া কর্মকর্তা ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে শুনছি। এতে অফিসের কাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, বদলির আদেশ ইস্যু হয় গত ২১/০৪/২০২৬ তারিখে। আদেশের কথা জানতে পেরে ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন সে থেকে এ পর্যন্ত (২৩/০৫/২০২৬) কর্মস্থলে আসেন নি। জানা গেছে তিনি বদলী ঠেকানে তদবির জন্য ঢাকায় অবস্থান করছে ।
এ বিষয়ে ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যে কারণে বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে এক মাসেও ক্ষমতা হস্তান্তর না করার বিষয়টি এলাকায় চাউর হয়ে পড়েছে। যে কারণে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এমন প্রশাসনিক অচলাবস্থা দ্রুত নিরসন করা প্রয়োজন। অন্যথায় সাধারণ রোগী ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
নতুন যোগদানকারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ এ এম আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি "আমার দেশ"কে বলেন, আমার কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করাই খুব যে একটা সমস্যা হচ্ছে তা নয়, তবে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ আমানুল্লাহ আল মামুন ওটিপির মাধ্যমে অন্য কর্মস্থলে থেকে কিছু সমস্যার সমাধান করছেন। দৈনন্দিন আর্থিক কাজের সমাধান কিভাবে করছেন ? জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি আর বলবো কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছেই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন