
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার স্কুলপাড়া এলাকার ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এখন স্থানীয়দের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, নিয়ম না মানা সংযোগ আর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম ঝুঁকি।
খোলা আকাশের নিচে জট পাকানো তার, বাঁশের খুঁটিতে টানা লাইন আর একটি পিলারের ওপর অমানবিক চাপ— সব মিলিয়ে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে শতাধিক পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাই স্কুলের পেছনের একটি কংক্রিটের পিলার থেকে ৫০টিরও বেশি আবাসিক মিটারে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। পিলারের গোড়া থেকে শুরু করে ওপর পর্যন্ত তারের জট এমনভাবে পেঁচিয়ে আছে যে কোনটি কোন মিটারের তার, তা বোঝা দায়। অতিরিক্ত ভারে তারগুলো রাস্তার ওপর নুয়ে পড়েছে।
কোথাও কোথাও জমি থেকে মাত্র ৬ ফুট উচ্চতায় ঝুলছে সার্ভিস লাইন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, একটি সার্ভিস পিলার থেকে সর্বোচ্চ ১০০ ফুট দূরত্বের মধ্যে সংযোগ দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে বারোবাজার স্কুলপাড়ায় ৫০০ থেকে ৬০০ ফুট দূর পর্যন্ত তার টেনে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
এতে মূল সড়ক, গলিপথ ও বসতবাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে তার ঝুলছে। কয়েকটি স্থানে গাছের ডালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিদ্যুতের তার। বর্ষায় গাছের পাতা ভিজে থাকলে শর্টসার্কিটের ঝুঁকি বাড়বে বলে জানান স্থানীয় ইলেকট্রিশিয়ান।
সবচেয়ে ভয়াবহ বাশে তার পেচিয় লাইন সংযোগ দিয়া হয়েছে শওকত ,কাছেদ ,বাবলু ,খোকন, জামির , আসলাম সহ, বেশ কয়েকটি বাড়িতে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার বলেন, “গত সপ্তাহের ঝড়ে বাঁশের খুঁটি হেলে গিয়ে তার প্রায় মাটিতে ঠেকে গেছিল। আমরা নিজেরা দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছি। বিদ্যুৎ অফিসে বললে বলে লোক নাই, খুঁটি নাই।” এসব বাঁশের খুঁটিতে কোনো আর্থিং বা ইনসুলেটর নেই। বৃষ্টির সময় বাঁশ ভিজে বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষার শুরুতে অন্তত ৪ বার তারে স্পার্কিং হয়ে আগুনের ফুলকি দেখা গেছে। ঝুঁকিতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ হাজারো পথচারী বারোবাজার স্কুলপাড়া এলাকায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০০শ শিক্ষার্থী এই ঝুঁকিপূর্ণ তারের নিচ দিয়ে যাতায়াত করে।
চতুর্থ শ্রনীর ছাএ আলিফকে নিতে আসা অভিভাবক বলেন, হাই স্কুলের পিছনের রাস্তায় কারেন্টের তারের যে অবস্থা বাচ্চাকে নিয়ে অনেক ভয় লাগে কখন কি হয়ে যায়। আল্লাহ না করুক, যদি ছিঁড়ে পড়ে…
স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড সদস্য সাহিনুর রহমান জানান,মানুষ মরার আগে কি কর্তৃপক্ষের টনক নড়বে না?” প্রশ্ন তার। ‘অভিযোগ দিয়েছি বেশ কয়েক বার , কাজ হয়েছে শূন্য বার’ এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত দুই বছরে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। কিন্তু খুঁটি সংকট ও বাজেট না থাকার অজুহাতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন লাইনম্যান বলেন, “আমাদের ওপর চাপ থাকে খুঁটি না থাকলেও সংযোগ দিতে হয়। পরে সমস্যা হলে আমরা কী করব?”
ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “একটি পিলারে সর্বোচ্চ ৬-৮টি মিটার সংযোগ দেওয়া নিরাপদ। ৫০টি মিটার মানে ওভারলোড।
এতে পিলার ভেঙে পড়া, ট্রান্সফরমার বার্স্ট হওয়া এমনকি পুরো এলাকায় আগুন লাগার ঝুঁকি থাকে।বাঁশের খুঁটি ব্যবহার তো সম্পূর্ণ অবৈধ ও ফৌজদারি অপরাধ।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) আবাসিক প্রকৌশলী জয়দ্বীপ সরকার জানান , আমরা এ বিষয়গুলো খুঁজে বের করতেছি আগামী অর্থ বছরে এই কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে।
মন্তব্য করুন