
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিং এলাকায় যাত্রীবাহী বাস ও মেইল ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার একই পরিবারের মা ও দুই শিশু সন্তান ও রাইপুর গ্রামের স্বামী স্ত্রী সন্তান সহ ৩জন মোট ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। ঐ বাসে ৩০ জন যাত্রী ছিলো।
শনিবার (২১ মার্চ) দিবাগত রাত ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার লেভেল ক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মহেশপুর থেকে নোয়াখালীগামী 'মামুন পরিবহন'-এর একটি যাত্রীবাহী বাস লেভেল ক্রসিং অতিক্রম করার সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। ট্রেনের প্রচণ্ড ধাক্ক দিয়ে মামুন বাসটা এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর মহেশপুরে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মহেশপুর পৌরসভার পাতিবিলা বিলপাড়ার পিন্টু ড্রাইভারের স্ত্রী লাইজু আক্তার (৪২), তার বড় মেয়ে খাদিজা খাতুন (৬) এবং ছোট মেয়ে মরিয়ম খাতুন (৪)। এছাড়া এস.বি.কে ইউনিয়নের ভালাইপুর গ্রামের ইনামুল হকের স্ত্রী সোনালী বেগম (৪৫) ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের সোহেল (৪৫) তার স্ত্রী সন্তান মারা গেছে। তারা মহেশপুর খালিশপুর কাউন্টার থেকে ৪জন টিকিট করে ছিলো।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদের দিন রাতে মহেশপুর কলেজ বাস স্ট্যান্ড থেকে পিন্টু হোসেন তার স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নোয়াখালীতে নানাবাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে মামুন পরিবহনে তুলে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে, ভালাইপুর গ্রামের ইনামুল হকও তার স্ত্রী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে একই নোয়াখালী যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনায় ইনামুল হকসহ পরিবারের আরও ৩ সদস্য গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোহল পরিবার নিয়ে নোয়াখালী শ্বশুর বাড়ি যাচ্ছিলো স্ত্রী ও ২ সন্তান সহ।
ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোমিন জানান,ঘটনাস্থলেই বাসের ১২ জন যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ৩ জন শিশু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সমন্বয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ১২ জনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় ৪ জন সেখানে চিকিৎসাধীন। বাকিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ওই রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িক ব্যাহত হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
স্বজনহারা মানুষের আর্তনাদে ঝিনাইদহের মহেশপুর চুয়াডাঙ্গার জীবননগর বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। পাড়া-প্রতিবেশীরাও নিজেদের চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।
মন্তব্য করুন