
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ভূপতিপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে চান্দিনা খাতুন (২২) নামে এক গৃহবধূর উপর বর্বর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাতে স্বামী মো. আমিরুল চৌধুরী (৩২), শ্বশুর মো. মিন্টু চৌধুরী (৫৮) ও শাশুড়ি মোছা. আমেনা খাতুন (৫০) মিলে তার মাথার চুল কেটে জোরপূর্বক বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত দোকানঘরে আটকে রাখেন।
ভুক্তভোগী গৃহবধূকে প্রতিবেশীদের সহায়তায় বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যরা উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনায় চান্দিনা খাতুনের বাবা মাজেদুল মন্ডল বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মালয়েশিয়া প্রবাসী জামাই আমিরুল চৌধুরী এক মাস আগে দেশে ফেরার পর আবার বিদেশ যাওয়ার জন্য এক লাখ ৮০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি মিলে চান্দিনার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালান।
চান্দিনা খাতুন জানান, বুধবার রাতে তার স্বামী তাকে একটি ফোন সংক্রান্ত অভিযোগে মারধর শুরু করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে কাঁচি দিয়ে মাথার চুল কেটে তাকে পরিত্যক্ত দোকানে আটকে রাখা হয়। তিনি বলেন, “সারারাত আমার ছোট ছেলে আমার কাছে আসতে চাইলেও তাকে কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।”
ভুক্তভোগীর বাবা মাজেদুল মন্ডল বলেন, “জামাই বিদেশ যাওয়ার আগে আমরা তাকে তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম। এবার দেশে ফিরে আবার টাকা দাবি করলে আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু হয়েছে।”
অভিযুক্তদের মধ্যে জামাই আমিরুল চৌধুরীর মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার বাবা মিন্টু চৌধুরী জানান, তিনি ঘটনার সময় বাড়িতে ছিলেন না, পরে এসে জানতে পারেন ছেলে এমন কাজ করেছে।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত যাতে পালাতে না পারে, তার জন্য এয়ারপোর্টে ব্লক করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন