
ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী রাশেদ খাঁন তার প্রতিদ্বযিন্দ্ব দুই প্রার্থী জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর থেকে কম ভোট পেয়ে হেরেছে। গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা রাশেদ খাঁন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন ৫৬ হাজার ২২৪। এ আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছে জামায়াতের দাড়িপাল্লা প্রতিকের আবু তালিব। পোষ্টাল ভোটসহ তার প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট।
নির্বাচনে পরাজয়ের পরের দিন শুক্রবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাাধ্যম ফেসবুকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের নাগরিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে একটি পোষ্ট দেন। পোষ্টে তিনি উল্লেখ করেন, সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার জন্য সবকিছু ছিলো নতুন। নানামুখী ষড়যন্ত্র স্বত্তেও স্বল্পসময়ে আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করেছি। এই সময়ে আপনাদের অফুরন্ত ভালবাসা পেয়ে আমি মুগ্ধ। যেহেতু বিএনপি ক্ষমতায়, ইনশাআল্লাহ ঝিনাইদহ-৪ আসনের সমস্ত উন্নয়ন বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হবে। আপনাদের কাছে দেওয়া সমস্ত ওয়াদা রক্ষা করা হবে, ইনশাআল্লাহ। আমি ধন্যবাদ জানাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জননেতা হামিদুল ইসলাম হামিদসহ নেতৃবৃন্দকে যারা আমার পাশে থেকে সবসময় আমাকে সাহস যুগিয়েছে।
পরিশেষে, আমি সকলকে সহনশীল ও ধৈর্যশীল থাকার অনুরোধ করছি। সবকিছু মেনে নিয়ে আমাদের নতুনভাবে এগিয়ে যেতে হবে। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সহায় হন, আমিন।
নির্বাচনে রাশেদ খানের ভরাডুবির পর স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাইফুল ইসলাম ফিরোজ দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ঢাকার রাজনীতি ছেড়ে কালীগঞ্জে আসেন। সে সময় তাকে ঝিনাইদহ-৪ আসনবাসি না চিনলেও বিএনপি নেতাকর্মীরা তার পাশে যেয়ে দাড়ায়। কিন্তু দলীয় কোন্দলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে স্থানীয় রাজনীতি তিনটিভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। ওই তিন গ্রুপের প্রধান কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সিনিয়র যুগ্ন সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সাবেক যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হামিদুল ইসলাম হামিদ এবং জেলা বিএনপির উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আলহাজ্ব এম শহীদুজ্জামান বেল্টুর সহধর্মীনি মুর্শিদা জামান। তারা সকলেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় মনোনয় প্রত্যাশি ছিলেন। তবে, নানা নাটকীতার মধ্যে শেষ প্রর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ থেকে আসা রাশেদ খাঁনকে দলীয় মনোনয়ন দেন বিএনপি। ২৭ ডিসেম্বর রাশেদ খাঁন গনঅধিকার পরিষদ থেকে বিএনপিতে যোগদান করেন। এদিন বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের হাতে ফুল দিয়ে যোগদান করেন। সেখান থেকে বিএনপি মহাসচিব ঘোষণা করেন রাশেদ খাঁন ঝিনাইদহ-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী। পরে হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদা জামান দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিলেও ফিরোজ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করে নির্বাচনের মাঠে নামেন।
সাইফুল ইসলাম ফিরোজের যুক্তি ছিল, কোন বহিরাগতকে মানাবো না। স্থানীয় বিএনপির তিন মনোনয়ন প্রত্যাশীর যে কোন একজনকে দিলে মেনে নিতাম। পরে কোমর বেধে মাঠে নামে সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সমর্থক ও নেতাকর্মীরা। তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝাতে সক্ষম হন রাশেদকে ভোট দিলে কালীগঞ্জবাসির কোন উন্নয়ন হবে না, তার বাড়ি ঝিনাইদহে। রাশেদ কালীগঞ্জে রাজনীতে নতুন হওয়ায় খোদ বিএনপির নেতা-কর্মীরায় মেনে নেননি কিন্তু প্রকাশ্যে তা বলতেও পারেননি। এরইমধ্যে দল কয়েক দফায় সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ তার শতাধিক নেতাকর্মীকে বহিস্কার করে। যারা সবাই দলের দূর্দিনে বিএনপির পাশে ছিলেন। তাদের মূল্যায়ন না করে উল্টা বহিস্কার করায় দলের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তারা আরো শক্ত হয়ে ভোটের মাঠে নামেন। অন্যদিকে রাশেদ খাঁন বিএনপি নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদ ও মুর্শিদা জামানের সমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে লড়তে থাকেন। ফলে বিএনপি ভোটাররা কার্যত প্রকাশ্যে দুইভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী দিয়ে মাঠের রাজনীতিতে নামেন। তারা দিনের পর দিন পাড়ায় মহল্লায় নারী ও পুরুষের আলাদা আলাদা টিম করে ভোটের প্রচার প্রচারনা চালাতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্রার্থী আবু তালিব বিজয়ী হন। তবে ভোটের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বিএনপি এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপির রাশেদ খাঁন ও স্বতন্ত্র ফিরোজ মিলে পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৮ ভোট। অন্যদিকে বিজয়ী জামায়াতের আবু তালিব পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৯৯৯ ভোট।
মন্তব্য করুন