
রাজনীতিতে সৌজন্যবোধের আকাল যখন চরমে, তখন ঝিনাইদহের শৈলকুপা দেখাল এক ভিন্ন চিত্র। ভোটের ময়দানের লড়াই শেষে জয়-পরাজয়ের সব তিক্ততা ভুলে একে অপরকে বুকে টেনে নিলেন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক এই উদারতা কেবল দুই নেতার মিলন নয়, বরং সাধারণ মানুষের মাঝেও স্বস্তি ও আশার আলো ছড়াচ্ছে।
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমানের নাদপাড়ার বাসভবনে যান। বিজয়ী প্রার্থীকে নিজের বাড়িতে পেয়ে পরাজিত প্রার্থী মতিউর রহমান হাসিমুখে পুষ্পমাল্য দিয়ে তাকে বরণ করে নেন। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তৈরি হয় এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ।
সাক্ষাৎকালে দুই নেতার আলাপচারিতায় বারবার উঠে আসে এলাকার উন্নয়ন ও সম্প্রীতির কথা। পরাজিত প্রার্থী এএসএম মতিউর রহমান বলেন, "ভোটের লড়াই ভোটের মাঠেই শেষ। এখন আমাদের পরিচয় আমরা এই জনপদের মানুষ। এলাকার উন্নয়নে বিজয়ী প্রার্থীর পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করার মানসিকতা আমার আছে।"
অন্যদিকে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বলেন, "শৈলকুপাকে একটি আদর্শ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই যাত্রায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, বরং সবার গঠনমূলক পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে আমি এগিয়ে যেতে চাই।"
নির্বাচন-পরবর্তী এই সৌজন্য বিনিময়কে ইতিবাচকভাবে দেখছেন শৈলকুপার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বিপরীতে এমন সম্প্রীতির চিত্র গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করবে। দুই প্রার্থীর আলিঙ্গন ও হাসিমুখের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
অনেকেই মন্তব্য করছেন, শৈলকুপার এই উদাহরণ যদি সারা দেশের রাজনীতিতে ছড়িয়ে পড়ত, তবে সংঘাতের বদলে সূচিত হতো এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির।
মন্তব্য করুন