
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় আরিফুর রহমান (৭৬) নামে এক প্রতিবন্ধী বৃদ্ধের মৃত্যুকে ঘিরে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী শেফালী বেগম (৫৩) তাকে আঘাত করে হত্যা করেছেন। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী শেফালী বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহত আরিফুর রহমান মদনপুর গ্রামের মৃত লাল চাঁদ গাজীর ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি পাঠাগারের তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। ডান পা পঙ্গু হওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারতেন না।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ বছর আগে শেফালী বেগমকে বিয়ে করেন আরিফুর রহমান। তাদের সংসারে দুই ছেলে রয়েছে, যারা বর্তমানে প্রবাসে কর্মরত।
নিহতের বড় মেয়ে এবং জামাতা আইয়ুব আলী জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে আরিফুর রহমানের সঙ্গে তাদের শেষবারের মতো কথা হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। তাদের দাবি, নিহতের কপালে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে প্রতিবেশীরাও তাদের মধ্যে গোলযোগ ও চিৎকার শুনেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরেই শেফালী বেগম কোনো ভোঁতা বস্তু দিয়ে আঘাত করে আরিফুর রহমানকে হত্যা করেছেন।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, “মরদেহের কপালে একটি কাটা দাগ পাওয়া গেছে। তবে ওই আঘাতেই মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মন্তব্য করুন