
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের শ্যামনগর গ্রামে এক গৃহবধূকে রান্নাঘরে ঢুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একজন নেতা আপস-মীমাংসা করে দিয়েছেন। অন্যদিকে, ঘটনার তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় কোতোয়ালি থানায় বুধবার রাতে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। মামলাটি হওয়ার পর কেন মামলা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও পুলিশকে শাসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী গৃহবধূ নিজেই কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৫ জুন ভোর ৬টার দিকে তিনি নিজ বাড়ির রান্নাঘরে ঝাড়ু দিচ্ছিলেন। এ সময় আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে একই গ্রামের সালাম মিয়া গোপনে রান্নাঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরেন এবং যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করেন। তার চিৎকার শুনে ঘরে থাকা স্বামী ও সন্তানরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যান। পরদিন ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকার একাধিক নারীর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। সেসব ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিশ হলেও প্রতিবারই একটি প্রভাবশালী মহল তাকে রক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে মামলা না করে আপস-মীমাংসায় যেতে চাপ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে একজন সাবেক জনপ্রতিনিধি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী বলেন, ঘটনা সত্য। তবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এলাকায় থাকতে হবে, এজন্যই তিনি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশের একটি টিম একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সালাম মিয়ার বিরুদ্ধে বুধবার সন্ধ্যায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। যদি তদন্তে প্রমাণ পাওয়া যায় যে কেউ বাদীপক্ষকে প্রভাবিত করার বা মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, সেক্ষেত্রেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন