
প্রতারণার পৃথক দুই মামলায় দুই আসামিকে দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন যশোরের একটি আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝিকরগাছা উপজেলার ইস্তা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে ও রাজা ব্রিকসের মালিক আল মামুন রাজা এবং মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার বুনাগাতী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদ বিশ্বাস। বুধবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সুলতানা পৃথক রায়ে এ দণ্ডাদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলার বাদী অভয়নগর উপজেলার ইটভাটা ব্যবসায়ী মো. নওয়াব আলী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, আসামি আল মামুন রাজার সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ২০২২ সালের ২০ জুন ইটভাটার জন্য কয়লা সরবরাহের বিষয়ে তাদের মধ্যে চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী আল মামুন রাজা প্রায় ২০ লাখ টাকার কয়লা সরবরাহ করেন। ২০২৩ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধের কথা থাকলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন।
পরে পাওনা টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে নওয়াব আলী ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতারণার মামলা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আল মামুন রাজাকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
অপর মামলার অভিযোগে জানা গেছে, আসামি মাহমুদ বিশ্বাস যশোর শহরের রেল রোড এলাকার টিভিএস উইংস শোরুম থেকে কিস্তিতে একটি টিভিএস মোটরসাইকেল কেনেন। তবে নির্ধারিত কিস্তির টাকা পরিশোধ না করায় তার কাছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯০০ টাকা বকেয়া পড়ে। বারবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি ওই টাকা পরিশোধ করেননি। পরে আজগার আলী ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা করেন।
দীর্ঘ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত মাহমুদ বিশ্বাসকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মন্তব্য করুন