
যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও ওই আওয়ামী লীগের কর্মীরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির এ নেতাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সরকার পতনের পর দীর্ঘদিন তারা আত্মগোপনে থেকে বর্তমানে এলাকায় ফিরে এসে ফের হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করছেন বিএনপির ওই নেতা। এসব অভিযোগ এনে রোববার রাত ১০টার দিকে কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন। অভিযোগ আমলে নিয়ে কোতোয়ালি থানা চাঁদপাড়া পুলিশ ফাঁড়িকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব বিষয় সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন বিবাদী আওয়ামী লীগের কর্মী চাঁদপাড়া গ্রামের জসিম ও রবিউল।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জসিম ও রবিউল বিভিন্নভাবে হয়রানি ও হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন। ৫ আগস্টের পরে কিছুদিন তারা পলাতক ছিলেন। এখন আবার এলাকায় ফিরে এসে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর কর্মকাণ্ড করছেন। সর্বশেষ গত ২১ জুন সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাদী ও আরও কয়েকজন চাঁদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসে ছিলেন। এমন সময় জসিম ও রবিউল সেখানে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রকাশ্যেই হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে বিএনপি নেতা রুহুল আমিনসহ তার পরিবার হুমকির মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের আগে জসিম ও রবিউল তাকে লক্ষ্য করে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় গুলি করেছিলেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তাদের কাছে অস্ত্র রয়েছে দাবি করে তা উদ্ধারেরও দাবি জানান বিএনপি নেতা রুহুল আমিন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জসিম ও রবিউল। জসিম জানান, বিএনপি নেতা রুহুল আমিনকে তিনি হত্যার হুমকি দেননি। তাকে নিয়ে শ্রেফ ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তবে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে রুহুল আমিনকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে তিনি বলেন, রুহুল আমিনকে লক্ষ্য করে মূলত গুলি করেছিলেন এনামুল। তিনি নন। এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা।
অন্যদিকে অভিযুক্ত রবিউলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে ফাঁসানোর জন্য এমন অভিযোগ করা হচ্ছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন। তিনিও গুলির ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গেই কাজ করছে পুলিশ। চাঁদপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সিরাজুল ইসলামকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম