মঙ্গলবার
২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

মণিরামপুরে জমি জটিলতায় আটকে গেছে পলাশী খাল খনন

জাহাঙ্গীর আলম, মণিরামপুর (যশোর)
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি।

যশোরের মণিরামপুরে জমি জটিলতার কারণে পলাশী খাল খনন কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। এতে চলতি বর্ষা মৌসুমে ১৬টি বিলের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং জমি মালিকদের মধ্যে একাধিক দফা বৈঠক হলেও এখনো কোনো সমাধান হয়নি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, কয়েক দশক ধরে পলাশী খাল দিয়ে ১৬টি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়ে আসছে। এ কারণে খাল খননের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। তবে খালের সিংহভাগ অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন হওয়ায় জমি মালিকরা ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

গত বছর প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ভবদহ সংলগ্ন নদী ও খাল খনন কার্যক্রম চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় মণিরামপুর উপজেলার দেবিদাসপুর, ইত্যা, কামালপুর ও পলাশী খাল খননের জন্য এক কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। “এস এন্টার প্রাইজ” নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়ে ইতোমধ্যে অন্যান্য খালের কাজ শেষ করলেও পলাশী খাল খনন শুরু করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খেদাপাড়া, গাঙ্গুলিয়া, রোহিতা, বাগডোব, নওয়াপাড়াসহ ১৬টি বিলের পানি পয়তার বিলে জমা হয়ে পলাশী খাল দিয়ে হরিহর নদীতে নিষ্কাশিত হয়। তবে খালের পাড় ভেঙে এটি সরু হয়ে গেছে।

জমি মালিক তপন কুমার দাস, আতিয়ার রহমান, মতিয়ার রহমান, দিলীপ কুমার দাসসহ অনেকে জানান, খালের বেশিরভাগ অংশ ব্যক্তি মালিকানাধীন। তাদের দাবি, সরকারি নকশায় খালের অস্তিত্ব স্পষ্ট নয়। ৮০’র দশকে স্থানীয় উদ্যোগে তিন ফুট চওড়া একটি নালা খনন করা হয়, যা ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত ছিল। পরে ১৯৯৮ সালে বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন) ১৫-২০ ফুট চওড়া প্রায় তিন কিলোমিটার খাল খনন করে। পরবর্তীতে একাধিকবার খননের ফলে এখন খালের প্রস্থ প্রায় ৩০ ফুটে দাঁড়িয়েছে, যার কারণে তাদের কৃষিজমি খালের মধ্যে চলে গেছে বলে দাবি করেন তারা। এখন আবার ১০ ফুট চওড়া করে খাল খনন করা হলে আরও জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিদ্যমান অবস্থায় খালটি যেভাবে আছে সেভাবেই খনন করতে হবে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমি রক্ষায় খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে জমি জটিলতার কারণে স্থানীয় জমি মালিকরা কাজ করতে বাধা দিচ্ছেন। এতে ভবিষ্যতে তারা নিজেরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।

মণিরামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, তিন কিলোমিটার খালের মধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটারই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। বিষয়টি সমাধানে গত শুক্রবার জমি মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সমস্যা নিরসনে প্রশাসন কাজ করছে বলে তিনি জানান।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওদেসা বন্দরে রুশ হামলায় ৪ ভারতীয়সহ নিহত ১০

ইরানকে মার্কিন সেনা হত্যার ‘বহুগুণ মূল্য’ দিতে হবে: ট্রাম্প

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে রেললাইন অবরোধ, বন্ধ ট্রেন চলাচল

‘আর্জেন্টিনার মানুষের হৃদয়ে মেসির অবস্থান চিরকাল অমলিন থাকবে’

ভারতে মোদি সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ, ‘তেলাপোকারা’ চলে এসেছে সংসদ পর্যন্ত

যশোরসহ ১৯ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্নে

বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দল ঘোষণা

তিতুমীর কলেজে হল ফি কমানোর দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

যশোরসহ ১০ জেলায় মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মেডিয়েশন কার্যক্রমের উদ্বোধন

বিশ্ববাজারে কমেছে তেলের দাম

কালীগঞ্জে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল ধ্বংস, দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা

আজ সোনার ভরি কত?

ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা

সংসদ অভিমুখে ফের পদযাত্রা করবে সিজেপি, উত্তপ্ত দিল্লির যন্তর মন্তর

টিভিতে আজকের খেলার সূচি

২১ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে: মির্জা ফখরুল

হাম ও ডেঙ্গু দু’টোই প্রতিরোধ জরুরি

গোপালগঞ্জে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে বৃদ্ধ আটক

X