
# গুদাম কর্তাদের প্রতি স্বচ্ছতার নির্দেশনা ডিসি ফুডের # জেলায় ১৫ দিনেই অর্জন ১০ হাজার ১শ’ মেট্রিকটন # দাম বেশিতে খুশি বিক্রিতে সুযোগ পাওয়া কৃষকেরা # সরকারি বিধি, গুদামে ধান গ্রহণে আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪
দুর্যোগে সরবরাহ ও ওএমএস সরবরাহের জন্য সরকারের খাদ্য বিভাগের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে। এবারের বোরো মৌসুমে ধান ও চাল মিলেয়ে যশোরের গুদামগুলোর অনুকুলে ৪ মাসে ৪৮ হাজার ৩শ’১৮ মেট্রিকটন সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করা হলেও ১৫ দিনেই সংগ্রহ অর্জিত হয়েছে ১০ হাজার ২শ’৩৯ মেট্রিকটন। আগামী ৩১ আগস্ট সংগ্রহের শেষ সময় নির্ধারিত হলেও তার আগেই কাঙ্খিত টার্গেট অর্জিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে দাবি যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের। তবে, হাট-বাজারে চলমান দামের চেয়ে এবার সরকার ঘোষিত দাম বেশি হওয়ায় বিভিন্ন সরকারি খাদ্যগুদাম কেন্দ্রিক মধ্যস্বত্বভোগী দালাল ও ফড়িয়াদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। যদিও প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছতার সাথে ধান সংগহ্র ও মিলারদের কাছ থেকে চাল গ্রহণের ব্যাপারে সরকারি বিধিনিষেধ অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের। দুর্যোগের সময় বিভিন্ন দূর্গত অঞ্চলে চাল সরবরাহ, দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ওএমএস, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির মাধ্যমে অল্প মূল্যে চাল বিতরণের জন্য খাদ্য বিভাগের প্রস্তুতি হিসেবে ধান ও চাল সংগ্রহ চলমান রয়েছে। এছাড়া এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। কৃষক তথা জনস্বার্থে সরকার ভর্তূকি দিয়ে বাজার ছাড়া বেশি দামে ধান সংগ্রহ করে ধান চাল সংগহ্র অভিযান আরো বেগবান করেছে। যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ মে থেকে ধান ও ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া চাল সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত জেলার গুদামগুলোতে সংগ্রহ টার্গেট রয়েছে ৪৮ হাজার ৩শ’১৮ মেট্রিকটন। এরমধ্যে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় টার্গেট নির্ধারণ রয়েছে ১৫ হাজার ১শ’৬৬ মেট্রিকটন ও মিলারদের কাছ থেকে চাল সংগ্রহ টার্গেট রয়েছে ৩৩ হাজার ১শ’৫৯ মেট্রিকটন। এ বছর চলমান বোরো মৌসুমে জেলায় টার্গেটের ১৫ হাজার ১শ’৬৬ মেট্রিকটন ধানের মধ্যে যশোর সদর খাদ্য গুদামে ধান ২ হাজার ৮শ’৪১ মেট্রিকটন, রুপদিয়া গুদামে ৭শ’১৭ মেট্রিকটন, মণিরামপুর খাদ্যগুদামে ২ হাজার ২শ’৯৩ মেট্রিকটন, কেশবপুর খাদ্য গুদামে ১ হাজার ৩শ’৫১ মেট্রিকটন, নওয়াপাড়া খাদ্যগুদামে ৭শ’৭৮ মেট্রিকটন, ঝিকরগাছায় ২ হাজার ৩৪ মেট্রিকটন, নাভারণে ১ হাজার ৭শ’২৮ মেট্রিকটন, বাগআঁচড়ায় ৮শ’১৬ মেট্রিকটন, খাজুরা গুদামে ১ হাজার ৪শ’৭০ মেট্রিকটন ও চৌগাছায় ১ হাজার ৮শ’৩১ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে। এরই মধ্যে এই গুদামগুলোতে গত ১ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ অর্জিত হয়েছে ৩ হাজার ২৪১ মেট্রিকটন। এছাড়া জেলার চাল সংগ্রহ টার্গেটের ৩৩ হাজার ১শ’৫৯ মেট্রিকটনের মধ্যে যশোর সদরের সদর খাদ্য গুদামে চাল ৯ হাজার ৪শ’৬৬ মেট্রিকটন, মণিরামপুর খাদ্যগুদামে ২ হাজার ৫শ’১ মেট্রিকটন, কেশবপুর খাদ্য গুদামে ৮শ ৩০ মেট্রিকটন, নওয়াপাড়া খাদ্যগুদামে ৮ হাজার ৩৪ মেট্রিকটন, ঝিকরগাছায় ১ হাজার ৭শ’৮৬ মেট্রিকটন, নাভারণে ৮ হাজার ৭শ’৯ মেট্রিকটন, বাগআঁচড়ায় ৮শ’১৬ মেট্রিকটন, খাজুরা গুদামে ৬শ’৪৮ মেট্রিকটন ও চৌগাছায় ১ হাজার ১শ’৮৫ মেট্রিকটন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ রয়েছে। এরই মধ্যে এই গুদামগুলোতে গত ১ জুন পর্যন্ত চাল সংগ্রহ অর্জিত হয়েছে ৬ হাজার ৭শ’৯৮ মেট্রিকটন । অর্থ্যাৎ ৪ মাসে ধান চাল মিলিয়ে ৪৮ হাজার ৩শ’১৮ মেট্রিকটন টার্গেটের মধ্যে ১ জুন পর্যন্ত সংগ্রহ অর্জিত হয়েছে ১০ হাজার ২শ’৩৯ মেট্রিকটন। খাদ্য বিভাগের পূর্ব ষোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা করে প্রতি মন ১ হাজার ৪শ’৪০ টাকায় কেনা হচ্ছে। সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা ও আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দাম নির্ধারণ রয়েছে। এবার সরকার নির্ধারিত ধানের দামে খুশি প্রান্তিক কৃষকেরা। খোলা বাজারে মোটা ধান ১৩শ’ টাকা করে মণ বিক্রি হচ্ছে। আর সরকার কিনছে ১৪শ’৪০ টাকা দরে। যশোর সদর গুদামসহ জেলার অধিকাংশ গুদামেই অ্যাপের মাধ্যমে ধান কেনা চলমান রয়েছে। সব কৃষক গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ না পেলেও সরকারি দাম ভাল দেয়ায় বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এদিকে তথ্য মিলেছে, কৃষক ও দরিদ্র বান্ধব এই ধান চাল ক্রয় কার্যমকে ঘিরে মধ্যস্বত্বভোগী দালাল ফড়িয়ারা সরকারি খাদ্য গুদাম কেন্দ্রিক আনাগোনা বৃদ্ধি করেছে। অনেক মৌসুমি চক্রের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। খাজুরা এলাকার আবিদুর রহমান নামে একজন কৃষক জানিয়েছেন, কয়েকজন দালাল ফড়িয়া বাজার থেকে ধান কিনে খাজুরা খাদ্য গুদামে দেয়ার পায়তারা করছেন। তারা কয়েক কৃষকের ভোটার আইডির ফটো কপি ও ফোন নাম্বার নিয়েছেন। কয়েকটি সরকারি গুদামে ওই চক্রের আনাগোনা রয়েছে। এক গুদাম কর্মকর্তার কাছে ওরা দোড়ঝাঁপ করছে। এদিকে, খাদ্য বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, চাল সরবরাহের কাজ পাওয়া বৈধ লাইসেন্সধারী চালকল মালিকদের তদারকি ও নজরদারি চলমান রয়েছে। এ ব্যপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরাসরি সকল গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন চাল সংগ্রহে স্বচ্ছতার প্রশ্নে। সরকারি বিধি অনুযায়ী খাদ্যগুদামে যে ধান বিক্রি করা হবে তার আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ মাত্রায় থাকতে হবে। এর বেশি হলে সেটি গ্রহণযোগ্য হবে না। কিন্তু কৃষক এই আর্দ্রতায় আছে কিনা সেটি নিশ্চিত হতে পারছে না। এ কারণে অনেক সময় আর্দ্রতা বেশি থাকা ধান নিয়ে আসছেন কৃষক। কৃষকেরা কিভাবে ময়েশ্চর পরিমাপ করবেন সে ব্যাপারে আগাম তথ্য ও প্রচরণা দাবি করেছেন অনেক কৃষক। এদিকে, চলমান ধান চাল সংগ্রহ অভিযান নিয়ে কথা হয় যশোর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সেফাউর রহমানের সাথে। তিনি গ্রামের কাগজকে জানান, সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে ধান চাল সংগ্রহ। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৪ মাসে ৪৮ হাজার ৩শ’১৮ মেট্রিকটন ধান ও চাল সংগ্রহের টার্গেট নির্ধারণ করা হলেও তার আগেই কাঙ্খিত টার্গেট অর্জিত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সরকারি বিনির্দেশ অনুযায়ী ধান চাল সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বচ্ছতার সাথে এই ক্রয় কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য সকল গুদাম কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। দালাল ফড়িয়াদের প্রতি সতর্ক থাকার ব্যাপারেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কৃষক, তৃণমূল দরিদ্র মানুষের জন্য চলমান এই বৃহৎ ধান চাল সংগ্রহ কর্মসূচি স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে বদ্ধ পরিকর যশোর জেলা খাদ্য বিভাগ। এ ব্যাপারে যশোর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-ওসি এলএসডি আশরাফ ইউসুফ দৈনিক গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, স্বচ্ছতার সাথে ধান চাল সংগ্রহ এগিয়ে চলেছে। অ্যাপের মাধ্যমে ক্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে, আর আশানুরূপ সাড়া মিলছে। ধান সরবরাহের সময় ধানের আর্দ্রতা ঠিকঠাকভাবে থাকতে হবে। সরকারি বিধি অনুযায়ী খাদ্যগুদামে যে ধান বিক্রি করা হবে তার আর্দ্রতা সর্বোচ্চ ১৪ মাত্রায় থাকতে হবে। দালাল ফড়িয়াদের কোনো স্থান নেই সরকারি ধান চাল কেনাকাটায়। সার্বিক কর্মসূচি ধান চাল সংগ্রহ কমিটি ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম