
যশোরে মুক্তেশ্বরী নদীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা, স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, ঐতিহাসিক জিয়া খাল পুনঃখনন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। রোববার দুপুরে মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।
স্মারকলিপিতে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেন, মুক্তেশ্বরী নদী যশোরের দক্ষিণাঞ্চলসহ বৃহত্তর অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের অবৈধ দখল, নদী ভরাট, স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ এবং প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে ঐতিহ্যবাহী এই নদীটির অস্তিত্ব আজ চরম হুমকির মুখে।
নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খনন করা ঐতিহাসিক ‘জিয়া খালটি’ বর্তমানে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে চলে গেছে। সিএস রেকর্ড অমান্য করে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে নদীর শ্রেণি পরিবর্তন করে জমি আত্মসাৎ, ভরাট ও স্থাপনা নির্মাণের উৎসব চলছে। এর ফলে যশোর শহর, সেনানিবাস এবং বিল হরিণা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ক্রমশ ভয়াবহ ও স্থায়ী আকার ধারণ করছে। মুক্তেশ্বরী নদী কেবল একটি নদী নয়; এটি যশোর অঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য, কৃষি উৎপাদন এবং মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নদীটিকে রক্ষা করা না গেলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা সংকট আরও তীব্র হবে। মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি উত্তরণে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
দাবিগুলো হলো: মুক্তেশ্বরী নদীর সকল অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং সিএস রেকর্ড অনুযায়ী নদী পুনঃখনন করা। ঐতিহাসিক জিয়া খাল অবিলম্বে পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করা। উজানে ভৈরব নদীর সঙ্গে মুক্তেশ্বরী নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন করা। নদী ও খাল দখলদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর সঙ্গে উজানের নদীর সংযোগ স্থাপন করে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের সদস্য সচিব রাশেদ খান, হারুন অর রশিদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, জিল্লুর রহমান ভিটু, আবু হাসান এবং বিল হরিণা বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক আহসান উল্লাহ ময়না, শাহজাহান আলী, হাচিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, অ্যাডভোকেট আবু কায়েস, শরিফ আহমেদ বাপ্পি, মুস্তাফিজুর রহমান কবির, যোগেষ দত্ত, শেখ আলাউদ্দিন, রিয়াদ রহমান, অ্যাডভোকেট ইমরান খান, ইব্রাহিম খলিল, রিয়াদ রায়হানসহ যশোরের বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় জনসাধারণ।
মন্তব্য করুন