
যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জঙ্গলবাঁধাল এলাকায় ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে গভীর রাতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে আসবাবপত্র ও বিভিন্ন সামগ্রী তছনছ করেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাতে জঙ্গলবাঁধাল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা কার্যালয়ের লোহার গ্রিলের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। এ সময় অফিসের আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ফ্রেমে বাঁধানো ছবিও নষ্ট করা হয়। এছাড়া কার্যালয়ের অন্যান্য সামগ্রীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
শনিবার সকালে পথচারীদের নজরে বিষয়টি এলে এলাকায় খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। খবর পেয়ে এলাকাবাসীও কার্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক মো. সফিয়ার রহমান শফি, বসুন্দিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান খান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. ফিরোজ খান, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় নেতারা ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে এটিকে ন্যাক্কারজনক বলে উল্লেখ করেন।
সদর উপজেলা বিএনপির প্রচার বিষয়ক সম্পাদক সফিয়ার রহমান শফি বলেন, রাতের অন্ধকারে দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তারা শান্ত বসুন্দিয়ার রাজনৈতিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
খবর পেয়ে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই মোফাজ্জল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার এবং দলীয় কার্যালয়ের নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন