
সীমান্ত শহর বেনাপোলের চেকপোস্ট এলাকায় রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এক ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সুপরিচিত ব্যবসায়ী ও ‘হায়দার স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী সোহাগ হায়দারের বাসভবনে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের অতর্কিত এই হামলা স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতরাতে আকস্মিক গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। দুর্বৃত্তরা সোহাগ হায়দারের বাড়ি লক্ষ্য করে অন্তত তিন রাউন্ড গুলি চালায়। এতে বাড়ির জানালার থাই গ্লাস চুরমার হয়ে যায় এবং দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন দেখা গেছে। ঘটনার সময় বাড়ির ভেতরে থাকা লোকজন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েন।
সহকারী হারুন রশিদ জানান, গুলির শব্দ শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং ভোরে জানালার কাঁচ ভাঙা ও গুলির চিহ্ন দেখে ভয়াবহ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
সোহাগ হায়দার এই এলাকার এক পরিচিত নাম। তিনি মূলত বিখ্যাত ‘হায়দার স্টোর’-এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম হায়দার সাহেবের যোগ্য উত্তরসূরি। আমদানি-রপ্তানি ও ফলের ব্যবসার পাশাপাশি তিনি তার সততা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে নিজের অবস্থান সুসংহত করেছেন। তার প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত পাসপোর্টযাত্রী ও সাধারণ মানুষের পদচারণা থাকে। কেবল ব্যবসায়ী হিসেবেই নয়, বরং একজন মানবিক মানুষ হিসেবেও তার ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দান-খয়রাত ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তিনি সবসময় সামনের সারিতে থাকেন।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। সোহাগ হায়দারের দ্রুত ব্যবসায়িক উত্থান, জনপ্রিয়তা এবং তার স্বচ্ছ জীবনযাপন অনেক স্বার্থান্বেষী মহলের গাত্রদাহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র দাবি করেছে, যারা তার ব্যবসায়িক উন্নতি সহ্য করতে পারছে না, তারাই হয়তো প্রতিহিংসাবশত এই ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের চেয়ে মানুষের সেবা ও ব্যবসার প্রতি মনোযোগী হওয়ায় তার এই জনপ্রিয়তাকে অনেকেই ‘চোখের বালি’ হিসেবে দেখছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্তবর্তী এলাকা হিসেবে বেনাপোলের নিরাপত্তা সবসময়ই সংবেদনশীল। একজন ব্যবসায়ীর বাড়িতে এভাবে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করায় প্রশ্ন উঠেছে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে।
সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, এই ঘটনাকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখার কোনো অবকাশ নেই। যদি প্রভাবশালী কোনো মহল বা কোনো ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট সোহাগ হায়দারের পথ রোধ করতে এমন আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে থাকে, তবে তা অদূর ভবিষ্যতে আরও বড় অঘটন ঘটাতে পারে।
প্রশাসনের প্রতি জরুরি আহ্বান সোহাগ হায়দারের পরিবার এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মহল বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করার জন্য প্রশাসনের উচ্চমহলের বিশেষ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন