
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছাতিয়ানতলা বাজার সংলগ্ন ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বর্তমানে কাঠ ও বাঁশের তৈরি একটি জরাজীর্ণ অস্থায়ী সেতুই নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, কৃষক এবং রোগীবাহী যানবাহনের যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে অস্থায়ী এই কাঠের সেতু। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ছাতিয়ানতলা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) যশোর অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলার সংযোগস্থলে ভৈরব নদীর ওপর ৭২ মিটার দীর্ঘ আরসিসি (RCC) গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে।
প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, রুপদিয়া জিসি-ছাতিয়ানতলা আরএইচডি সড়কের ৫৫০০ চেইনেজ পয়েন্টে সেতুটি নির্মাণের জন্য ৫ কোটি ৫৬ লাখ ৮ হাজার ২২৪ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কাজ শুরু হয়ে ২০২৩ সালের ১৩ মে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোজাহার এন্টারপ্রাইজ (প্রা.) লিমিটেড ও শামীম চাকলাদার (জেভি)।
স্থানীয়দের দাবি, কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়। ২০২২ সালের প্রথম দিকে কাজ বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে এক বছরের প্রকল্প পাঁচ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি।
সেতুটির নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকার শিক্ষার্থীরা। ছাতিয়ানতলা এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি বালিকা বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা এবং একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ রয়েছে।
প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু পার হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করছে। অভিভাবকদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এছাড়া ছাতিয়ানতলা হাটে কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কৃষকদের। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সময়ও বেশি লাগছে।
স্থানীয়রা জানান, সেতুর অভাবে জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে বড় ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহনকে বিকল্প পথ হিসেবে রুপদিয়া বাজার ঘুরে যশোর শহরে যেতে হচ্ছে।
ছাতিয়ানতলা-ঘোপ এলাকা থেকে যশোর শহরের দূরত্ব প্রায় ৮ কিলোমিটার হলেও বিকল্প পথ ব্যবহারের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জনস্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় শুরু করে শেষ করতে হবে। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, এলজিইডি এবং জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন এই সেতুটি চালু হলে যশোর সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলার মধ্যে যোগাযোগব্যবস্থা আরও সহজ হবে, কৃষি ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম