
যশোরে যৌতুকের টাকা না পেয়ে আফসানা মিম নামে এক গৃহবধূকে মারধর ও গলা টিপে শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় স্বামী সবুজকে আটক করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আটক সবুজ খাজুরা গহেরপুর গ্রামের মৃত লিয়াকত আলীর ছেলে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের মেয়ে আফসানা মিম। মামলায় সবুজের সঙ্গে তার মা সবুরুন নেছা এবং সবুজের দ্বিতীয় স্ত্রী সেলিনা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। বুধবার রাতে ফুলবাড়ী পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা সবুজকে আটক করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ১ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর, ২০২৪ সালে মিমের অমতে সবুজ হোসেন সেলিনা বেগম নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকেই দ্বিতীয় স্ত্রী এবং মা সবুরুন নেছার প্ররোচনায় সবুজ মিমের কাছে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মিম তার বাবার জমি বিক্রির ২ লাখ টাকা সবুজকে দেন। সবুজ ব্যবসা করার এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা না করে টাকা খরচ করে ফেলেন। কিছুদিন ভালো থাকার পর তিনি পুনরায় ব্যবসার অজুহাতে মিমের কাছে আরও ২ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। মিম টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে আসামিরা আবারও টাকার জন্য চাপ দেন। মিম অস্বীকৃতি জানালে সবুজ বাঁশের লাঠি দিয়ে তার হাত, পা, উরু ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালান।
মিমের চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাকে ছেড়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে মিমের মা মনি বেগম, খালাতো বোন ও ভাবী তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সুস্থ হয়ে মিম থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ আটকের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে সবুজকে আদালতে সোপর্দ করে। পরে বিচারক মীমাংসার শর্তে সবুজের জামিন মঞ্জুর করেন।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম