
‘আজি শুভদিনে পিতার ভবনে অমৃত সদনে চলো যাই, চলো চলো, চলো ভাই’ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে বৃহত্তর যশোরের মুজিব বাহিনীর উপ-প্রধান অ্যাডভোকেট বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব যশোরের গোলাম মাজেদ অডিটোরিয়ামে বীর মুক্তিযোদ্ধা জন্মবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে পরিবেশটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আবেগঘন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে সুরধুনী সংগীত নিকেতনের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশন করেন। পরে সহধর্মিনী মৌলুদা আলমসহ উপস্থিত সকলকে সঙ্গে নিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম জন্মদিনের কেক কাটেন।
এ উপলক্ষে অর্ধশতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়।
শুভেচ্ছা পর্বে সভাপতিত্ব করেন জন্মবার্ষিকী উদযাপন পর্ষদের আহ্বায়ক হারুন আর রশিদ। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার এ এস এম মুজহারুল ইসলাম মন্টু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি ও দৈনিক কল্যাণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা একরাম উদ দ্দৌলা, সাধারণ সম্পাদক ও গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন এবং যশোরের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর পক্ষে সানোয়ার আলম খান দুলু।
বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলমের জীবনী পাঠ করে শোনান যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের (জেইউজে) সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উদযাপন পর্ষদের যুগ্ম আহ্বায়ক সাজেদ রহমান।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে জন্মদিন পালনের এই আয়োজনের অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা তাঁর নেই। তিনি বলেন, “এই মনিহার আমার নাহি সাজে।” তিনি আরও বলেন, যারা বলে ৭১ হারিয়ে গেছে, তারা সেই সময়েও ৭১-এর বিরুদ্ধে ছিল এবং এখনো থাকবে। পাশাপাশি তিনি সকলকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদান করে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড, যশোর ইনস্টিটিউট, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, চাঁদের হাট যশোর, ব্যঞ্জন থিয়েটার, বিবর্তন, উদীচী, জয়তী সোসাইটি, সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ, সম্মিলনী ৮৬, দ্যোতনা সাহিত্য পরিষদ, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ, দৈনিক কল্যাণ পরিবার, গ্রামের কাগজ পরিবারসহ বিভিন্ন সংগঠন।
মন্তব্য করুন