
পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ও ত্যাগের বার্তা ছড়িয়ে দিতে যশোরে ১২২টি সুবিধাবঞ্চিত ও দুস্থ পরিবারের মাঝে কোরবানির মাংস বিতরণ করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফিরোজা সমাজকল্যাণ সংস্থা। প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও সংগঠনটির এই মানবিক উদ্যোগে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে পেরে খুশি হয়েছেন সুবিধাভোগীরা।
ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠনটির সদস্যরা দুস্থ পরিবারের হাতে কোরবানির মাংস তুলে দেন। মাংস পেয়ে অনেক পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। আয়োজকরা জানান, সমাজের কোনো মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্য থেকেই তাদের এ উদ্যোগ।
এর আগে, সংগঠনের সদস্যরা সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি সংগঠনের মানবিক কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মাংস বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি। তিনি বলেন, কোরবানির মূল শিক্ষা হলো ত্যাগ ও মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা। ফিরোজা সমাজকল্যাণ সংস্থা সেই শিক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে।
সংগঠনের সভাপতি খায়রুজ্জামান বলেন, 'ঈদের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়া যায়। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ যেন উৎসবের দিনে নিজেদের একা না ভাবেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।'
সহ-সভাপতি আজমুল হোসেন সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ এগিয়ে এলে কোনো দরিদ্র পরিবারই ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না।
সাধারণ সম্পাদক তানভীর হায়দার তমাল জানান, পিছিয়ে পড়া মানুষদের ঈদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুর রহমান সাম্মি, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক আরশাদ আলী, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক সাকিব সামরান, প্রচার সম্পাদক কাজী নাজমুস রায়হান, কোষাধ্যক্ষ এ কে বড়াল, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ আসিফ হোসেন ও মোর্তুজা হোসেন তরফদারসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
মন্তব্য করুন