
যথাযোগ্য মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যশোরে উদযাপিত হচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন ঈদগাহ ও মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে শহর ও আশপাশের এলাকার হাজারো মুসল্লি অংশ নেন। পরে সকাল সাড়ে ৮টায় একই স্থানে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এরপর মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের জামাতে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আজ বিকেল ৪টার মধ্যে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যারা কোরবানি করবেন, তারা দুপুর ২টার মধ্যে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলবেন। তাহলে পৌরসভার কর্মীরা দ্রুত সেগুলো অপসারণ করতে পারবেন। বিকেল ৪টার পর ময়লা ফেলা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তা অপসারণ করা সম্ভব হবে না।”
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ঈদের আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় ম্লান না হয়, সেজন্য মোটরসাইকেল চালকদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বাইকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সড়কে ধীরগতিতে চলাচল করুন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সঙ্গে রাখুন।” একই সঙ্গে তিনি আত্মশুদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “কোরবানির পাশাপাশি আমাদের অন্তরের পশুত্বকেও কোরবানি করতে হবে।”
এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন। এছাড়া ঈদের জামাতে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ঈদের নামাজ শেষে জেলার বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় পশু কোরবানির প্রস্তুতি। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত সর্বত্র গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশু কোরবানিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মুসলমানরা। কোথাও কোথাও স্বেচ্ছাসেবী দল ও পৌরসভার কর্মীদের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও সক্রিয় দেখা গেছে।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে যশোরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঈদগাহ, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসস্ট্যান্ড ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে কাজ করছে পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন। সব মিলিয়ে ধর্মীয় আবহ, আনন্দ, সম্প্রীতি ও ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছে যশোরের ঈদ উদযাপন।
মন্তব্য করুন