
আগামী জুনের মধ্যে যশোর-ঢাকা প্রভাতী ট্রেনসহ ছয় দফা দাবিতে ফের আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। রোববার এই দাবিতে যশোর রেলওয়ে জংশনে সংবাদ সম্মেলন করেন কমিটির নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলন থেকে, আগামী জুন মাসের মধ্যে যশোর-ঢাকা প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় জুলাই মাস থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
যশোর জংশন প্লাটফর্মে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন। উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের আহ্বায়ক জাতীয় হকি কোচ কাউসার আলী, উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান ভিটু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ, সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সংগঠনের নেতা হারুন অর রশিদ, তসলিম-উর-রহমান, দিপংকর দাস রতন, অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, মোস্তাফিজুর রহমান কবির, হাবিবুর রহমান মিলন, অধ্যক্ষ এস ইকবাল লিপন,পলাশ বিশ্বাস প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন বলেন, নানা আন্দোলন সংগ্রামের পর পদ্মাসেতু রেলপ্রকল্পের শুরুতে যশোরবাসী একটি ট্রেন পেয়েছে। কিন্তু সেটি সকাল ১০টার দিকে ঢাকা থেকে ছাড়ে এবং বিকেলে যশোর থেকে ঢাকা যায়। অথচ যশোরবাসীর মূল দাবি ছিল, ভোরে যশোর থেকে একটি ট্রেন ঢাকায় যাবে এবং সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে একটি ট্রেন আসবে। যাতে করে সকালে ঢাকায় যেয়ে সারাদিন ঢাকায় কাজ সেরে রাতে আবার যশোরে ফিরে আসা যায়। এই দাবি ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষিতে রেল সচিব ও মহাপরিচালক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে দাবি পূরণ করা হবে। কিন্তু সেই সময়সীমা পার হয়ে মে মাস পার হতে চললেও সেই ট্রেন যশোরবাসী পায়নি। এজন্য আগামী জুন মাসের মধ্যে যদি প্রতিশ্রুত ট্রেনটি না পাওয়া যায়, তাহলে জুলাইয়ে আবারো আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে যশোরবাসী। এ সময় তিনি দাবি আদায় না হলে ৬ জুলাই যশোর জংশনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
একইসাথে ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন, এগুলো হলো, জুন’২৬ এর মধ্যে ১টি প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেনসহ (বেনাপোল / দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-নড়াইল-পদ্মাসেতু হয়ে ঢাকা রুটে) দর্শনা সীমান্ত যশোর ঢাকা আরো ২ টি আন্তঃনগর ট্রেন দিতে হবে; সকল আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ বগি যুক্ত করতে হবে; দর্শনা খুলনা রুটে এবং বেনাপোল যশোর রুটে ডবল রেল লাইন চালু করতে হবে; বেনাপোল বা দর্শনা সীমান্ত যশোর ঢাকা রুটে কমিউটর ট্রেন চালু করতে হবে; সিঙ্গিয়া রেল স্টেশনে রেল কন্টিনেন্টাল টার্মিনাল চালু করতে হবে; ও রেলকে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম করার উদ্যোগ নিতে হবে।
ইতোমধ্যে যশোর-ঢাকা রুটে নতুন ট্রেনের জন্য রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়ায় যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য বিদ্যুৎ জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকেও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ইঞ্জিনিয়ার রুহুল আমিন।
মন্তব্য করুন