
যশোর-খুলনা মহাসড়কের রূপদিয়ার চাউলিয়া তেল পাম্প এলাকায় দ্রুতগামী একটি কাভার্ডভ্যানের চাপায় ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানের চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং ঘাতক কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন যশোর সদর উপজেলার ঘুনিপূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ও ইজিবাইকচালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩), ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া গ্রামের সুজন সাহার স্ত্রী বৃষ্টি সাহা (২৪), তার চার বছরের ছেলে সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের মৃত কালু শেখের ছেলে ভ্যানচালক আনোয়ার আলী (৭০)।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান রূপদিয়ার চাউলিয়া তেল পাম্প এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইক ও ইঞ্জিনচালিত ভ্যানকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই ইজিবাইকচালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও তিনজনকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভ্যানচালক আনোয়ার আলী ও শিশু সৌভিক সাহার মৃত্যু হয়।
বর্তমানে সাজ্জাদ হোসেন (২৮)সহ আরও দুইজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যশোর জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাকিরুল ইসলাম জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত আনোয়ার আলীর ছেলে জামাল হোসেন জানান, তার বাবা ভ্যানে তিনজন যাত্রী নিয়ে চাউলিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যানটি ইজিবাইক ও ভ্যানকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে তারা ঘাতক কাভার্ডভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস সদর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাছুম খান বলেন, দুর্ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে কাভার্ডভ্যানটি পুড়ে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মন্তব্য করুন