
যশোরের মণিরামপুরে আধুনিক, টেকসই ও স্মার্ট কৃষি উন্নয়ন এবং কৃষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার কংগ্রেস–২০২৬” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা। জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, কৃষি প্রযুক্তির প্রসার এবং পুষ্টিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার এ আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালাটি ছিল “প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)” প্রকল্পের আওতাভুক্ত।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সম্রাট হোসেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহারিয়া হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন পার্টনার প্রকল্পের যশোর অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার সাজ্জাদ হোসেন এবং অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবুল হাসান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি এখন সময়ের দাবি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
এ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বীথি, মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম মজনুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সেলিম রেজা, প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত কৃষি অফিসার শারমিন শাহনাজ, বিআরডিব অফিসার বিশ্বজ্যিৎ ঘোষ, আইসিটি অফিসার রাজু আহমেদ, সমবায় অফিসার রনজিৎ কুমার দাস, যুব উন্নয়ন অফিসার পুলক কুমার সিকদার, মহিলা বিষয়ক অফিসার মৌসুমী আক্তার, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা তবিবুর রহমান, উপসহকারী কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার দাশ, শফিকুল ইসলাম, অচিন্ত কুমার ভৌমিক, মূল অংশগ্রহনকারি কৃষকসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, সাংবাদিক, উন্নয়নকর্মী সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ পার্টনার কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির বিকল্প নেই। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতের সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিই ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কৃষকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, রবি শস্যের উন্নত জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। কর্মশালা শেষে সফল কৃষকদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
মন্তব্য করুন