
ঝকমকে আলো আর উৎসবমুখর পরিবেশ। চারদিকে আনন্দের আমেজ। একদল তরুণের চোখে-মুখে নতুন কিছু করার স্বপ্ন। তবে এই স্বপ্ন শুধু ব্যবসা বা মুনাফা অর্জনের নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক মহৎ সামাজিক দায়বদ্ধতা। ১২ জন বন্ধুর হাত ধরে যশোরের বারীনগর বাজারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করল তৈরি পোশাকের বিশেষ বিক্রয় কেন্দ্র ‘নরমাল’।
মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকেলে ফিতা কাটা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। তবে এই উদ্যোগের সবচেয়ে অনন্য দিক হলো প্রতিষ্ঠানটি থেকে অর্জিত লভ্যাংশের পুরো টাকা ব্যয় করা হবে এলাকার অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের কল্যাণে।
ব্যতিক্রমী এই ব্যবসায়িক ও সামাজিক উদ্যোগের মূল পরিকল্পনাকারী সুইডেন প্রবাসী হুসাইন কবীর বাবু। তাঁরই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এলাকার ১২ জন বন্ধু মিলে গড়ে তুলেছেন এই প্রতিষ্ঠান। দূর প্রবাসে থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন হুসাইন কবীর বাবু এবং তাার সহধর্মিণী জেসমিন আক্তার।
ভার্চুয়াল বক্তব্যে হুসাইন কবীর বাবু বলেন, ‘আমরা শুধু ব্যবসার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটি চালু করিনি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। এলাকার একঝাঁক উদ্যমী বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চেয়েছি, যা একদিকে মানুষের পোশাকের চাহিদা মেটাবে, অন্যদিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে।’
উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, বারীনগর এবং আশপাশের অঞ্চলের মানুষকে ভালো মানের পোশাক কিনতে এতোদিন জেলা শহরে ছুটতে হতো। এতে একদিকে যেমন যাতায়াত খরচ বাড়ত, অন্যদিকে অপচয় হতো মূল্যবান সময়। গ্রামীণ মানুষের এই ভোগান্তি দূর করাই ‘নরমাল’-এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উদ্যোক্তারা তাঁদের মূল লক্ষ্যগুলো তুলে ধরে বলে স্বল্পমূল্যে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ মানসম্মত এবং আধুনিক ডিজাইনের তৈরি পোশাক পৌঁছে দেয়া হবে। উন্নত পোশাক ক্রয়ের জন্য স্থানীয় মানুষের জেলা শহরে যাওয়ার কষ্ট ও খরচ লাগব করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। একই সাথে কাপড়ের গুণগত মান নিশ্চিত করে ক্রেতাদের আস্থা অটুট রাখা হবে।
লভ্যাংশ যাবে অসহায় মানুষের তহবিলে, লক্ষ্য স্বাবলম্বী সমাজ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নাম ‘নরমাল’ হলেও এর উদ্দেশ্য মোটেও সাধারণ নয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি পণ্য বিক্রয় থেকে যে লাভ বা মুনাফা আসবে, তা একটি বিশেষ তহবিলে সংরক্ষিত রাখা হবে। উদ্যোক্তারা জানান, এই লভ্যাংশের টাকা নিজেদের পকেটে যাবে না; বরং তা পুরোপুরি ব্যয় করা হবে এলাকার অসহায় ও অস্বচ্ছল মানুষের উন্নয়নের জন্য।
১২ জন বন্ধুর নিজস্ব সামাজিক সংগঠন ‘বন্ধু আমরা বিজয়ী’ এর মাধ্যমে প্রতি মাসে এই লভ্যাংশের টাকা দিয়ে এলাকার অন্তত একজন দরিদ্র বা অসহায় মানুষকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করা হবে। কাউকে রিকশা বা ভ্যান কিনে দেয়া, কাউকে সেলাই মেশিন দেয়া কিংবা ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজি জোগাড় করে দেয়ার মাধ্যমে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করা এই বন্ধুদের মূল লক্ষ্য।
আলোচনা সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির উত্তরোত্তর সাফল্য এবং উদ্যোক্তাদের এই মহৎ উদ্দেশ্য যেনো সফল হয়, সেই প্রার্থনা করা হয়।
মন্তব্য করুন