
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভা একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও উন্নয়নমুখী রোল মডেল নগরীতে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে একটি নান্দনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। কপোতাক্ষ নদ-কে ঘিরে এই উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিকরগাছা পৌরসভার সার্বিক অবকাঠামো ও নগর ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে পৌরসভার নিজস্ব আয়ের একটি বড় উৎস হয়ে উঠতে পারে পর্যটন খাত, বিশেষ করে ফুল পর্যটন কেন্দ্রিক ভ্রমণকারীদের আগমন।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌর উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সিআরএপি বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালাটি উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সাফফাত আরা সাঈদ।
কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় ঝিকরগাছা পৌরসভা-এর উদ্যোগে এবং এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
স্বাগত বক্তব্য দেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার হাজরা এবং সহকারী প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী সরদার।
বক্তব্য রাখেন, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য ও ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ জালাল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী সায়ফুল ইসলাম মোল্লা, সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম রাকিব, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ওয়ালিউর রহমান, সমাজসেবা অফিসার তৌহিদুল ইসলাম,যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা তোফাজ্জেল হোসেন, আরইউটিডিপি প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রকল্প বাস্তবায়নে করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ মোঃ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ
মোঃ আল আমিন, আর্কিটেক আজমিরা আক্তার, আর্কিটেক ফারহানা ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক সরদার শহিদুল ইসলাম,সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবী মুরাদ,পৌর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক আরমান হোসেন কাকন, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক হারুন অর রশীদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নাহিদ আক্তার, ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সেক্রেটারি মোঃ তরিকুল ইসলাম প্রমুখ। দিনব্যাপী কর্মশালায় টিএলসিসির সদস্যগন উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় এই প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঝিকরগাছা পৌরসভাকে সহনশীল নগর অবকাঠামো ও পরিষেবা সমূহের পরিধিবৃদ্ধি করা,নির্বাচিত স্থানগুলোর ব্যবস্থাপনার দক্ষতা জোরদার করা, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমসহ মৌলিক নগর পরিষেবা বৃদ্ধি করা, নগর সমূহের সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নিজস্ব উৎস থেকে আয় বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করা,পরিকল্পনা প্রনয়ণ,অর্থায়ন,বাস্তবায়ন,পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম কার্যকর ও টেকসইভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে পৌরসভায় প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি করাই এই প্রকেল্পের উদ্দেশ্য।
বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আরইউটিডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন হলে জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নত নগর অবকাঠামো নির্মাণ ও সুবিধাদি বৃদ্ধি হবে।
স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক গৃহীত ২০২৪সালের জুলাই হতে ২০৩০সালের জুন পর্যন্ত ৬বছর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার সিদ্ধান্ত রয়েছে।
সারাদেশে এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫হাজার ৯০১ কোটি টাকা। যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা দেয়া হবে ১হাজার ৬৪১কোটি টাকা। এর আগে প্রকল্পটি গত ২০২৪সালের ২১জুন বিশ্ব ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকদের বোর্ড সভায় প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। পরে একই বছরের ৭অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত ও প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয় ২০২৫ সালে।
কর্মশালায় সমাপনী বক্তৃতায় অনুষ্ঠানের সভাপতি পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাফফাত আরা সাঈদ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফুলের রাজধানীখ্যাত গদখালীতে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক ফুল ও প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকদের উপস্থিতি ঘটে। স্থানীয়দের পাশাপাশি অন্যান্য ভ্রমণপিপাসুদের সুস্থ বিনোদনের সুবিধার্থে আমরা ঐতিহ্যবাহী কপোতাক্ষ নদকে ঘিরে নান্দনিক সৌন্দর্যে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে পারি। এক্ষেত্রে আমাদের সকলের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন