
ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে কৃষকরা এবার চরম সংকটের মুখে পড়েছেন। একদিকে মাঠজুড়ে পাকা ধান প্রস্তুত, অন্যদিকে ভয়াবহ শ্রমিক সংকট এবং শ্রমমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে ফসল উৎপাদন করলেও বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।
বুধবার (১৩ মে) সকালে বাঁকড়া গ্রামের দাসপাড়া মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা নিজেদের উৎপাদিত পাকা ধান সংগ্রহে ব্যস্ত। কৃষক আব্দুল মালেক নিজেই ধানের আটি শ্রমিকদের মাথায় তুলে দিচ্ছেন, দূরের রাস্তা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য। পরে সেখান থেকে ধান বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শ্রমিক সংকট। অনেক কৃষকই প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক পাচ্ছেন না। যা পাওয়া যাচ্ছে তাদের মজুরি অনেক বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বর্তমানে এক মণ ধানের দাম প্রায় এক বেলার শ্রমিক মজুরির সমান হয়ে গেছে। চার বিঘা জমির ধান কাটতে গিয়ে দুইজন শ্রমিক নিয়ে এক বেলার কাজেই প্রায় ৯০০ টাকা খরচ হচ্ছে। অথচ সেই পরিমাণ ধানের বাজার মূল্যও প্রায় একই পর্যায়ে থাকায় কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।
মাঠে পাকা ধানের শীষ ঝরে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে, কারণ শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না।
বর্গা চাষিরা সকালে অন্যর কাজ করছেন বিকালে পরিবারের লোকজন মিলে (মহিলাদের নিয়ে) ধান কাটছে। বর্গা চাষী সামছুর ও আব্দুর রশিদ সহ অনেককে স্বামী স্ত্রী পরিবারের লোকজন মিলে কাজ করছে।
ধান প্রস্তুত করলেও বাজার মূল্য নিয়ে হতাশ কৃষক। বাঁকড়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, সরকারি ঘোষনায় কোন কৃষক ধান বিক্রি করতে পারবে না নানা অজুহাতে কৃষকদের ধান নিবেনা।
তিনি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে যদি ঘোষনা দিয়ে কৃষকের ধান কৃষকের বাসা থেকে ক্রয় করলে কৃষক বিক্রয় সুবিধা পাবে। তা না হলে পূর্বের মতন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি কোটা পূরণ হয়ে কৃষক বঞ্চিত হবে।
তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ের ব্লক সুপারভাইজারদের সমন্বয়ে ধান ক্রয়ের ব্যবস্থা করবার জন্য সরকারের কাছে দাবি রাখেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান পরাগ জানান, কোন ভোগান্তি হবে না তালিকাভুক্ত প্রকৃত কৃষকরা ধান বিক্রয় করতে পারবে যারা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি তারা যদি আইডি কার্ড নিয়ে আমার সাথে যোগাযোগ করে আমি তাদের অন্তর্ভুক্তির ব্যবস্থা করব।
ধান উপজেলা সদর থেকে ফেরত আসতে হবে না। ধান প্রস্তুত করে কৃষক আমাদের খবর দিলে আমরা কৃষকের বাসায় যেয়ে মান নির্ণয় করে ছাড় করব। সেন্টিগেট বিষয়টি সত্য নয়।
এদিকে অনেকে বলছে, ধানের দাম বাড়বে কিন্তু কৃষক পাবে না পাবে পরে মজুমদাররা।
মন্তব্য করুন