
যশোরে ইজিবাইক, মোটর রিকসা-ভ্যানের ব্যাটারি চার্জিং পয়েন্টে অভিযান আসছে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বাণিজ্যিক চার্জিং পয়েন্ট বন্ধ করতে এই অভিযানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুযায়ী আজ থেকেই এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, যশোরে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও রাজস্ব ফাঁকি দিতে আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে চলছে ইজিবাইক ও রিকশা ভ্যানের ব্যাটারিতে চার্জ দেয়ার গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট। গ্যারেজগুলোতে এসব যান রাতভর চার্জ দেয়া হয়। একটি ইজিবাইক চার্জের জন্য গ্যারেজ মালিককে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১২০ টাকা করে দিতে হয়। রিকশা-ভ্যানের জন্য দিতে হয় ৬০ থেকে ৭০ টাকা। অথচ এই সব গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট বেশির ভাগই চলে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে। এর মধ্যে কিছু চার্জিং পয়েন্ট চলছে আবাসিক সংযোগ লাইন রেট দিয়ে। অসাধু ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফার লোভে বাড়তি বিদ্যুৎ বিল গুণতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। একই সাথে অনুমোদনহীন এই সব গ্যারেজের জন্য প্রতিমাসে খরচ হচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ও আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে বাণিজ্যিকভাবে ইজিবাইক ও রিকশা ভ্যানের ব্যাটারিতে চার্জ দেয়ার গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট বন্ধে অভিযানে নামছে যশোর জেলা প্রশাসন। আজ থেকেই এ অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন যশোর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। জেলা আইন শৃংখলা কমিটির সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন। রোববার কালেক্টরেট সভাকক্ষে মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিগত মাসের আইন শৃংখলা পরিস্থিতি উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার।
সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্য মতে, যশোর জেলার সড়কে প্রতিদিন চলছে প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যান। এই সব ইজিবাইক ও রিকশা ভ্যানের ব্যাটারিতে চার্জ দিতে জেলায় গড়ে উঠেছে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় আট হাজার গ্যারেজ বা চার্জিং পয়েন্ট। সাধারণত একটি ইজিবাইকের জন্য চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি প্রয়োজন। আর প্রতি সেট ব্যাটারি চার্জের জন্য গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ ওয়াট হিসেবে পাঁচ থেকে ছয় ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যানে ৫০০ ওয়াট হিসেবে তিন ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এতে অনায়াসে পাঁচ-ছয় ঘণ্টা চালানো যায়। এই হিসেবে গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জ দিলে প্রচুর বিদ্যুৎ বিল আসে। এ কারণে গ্যারেজ মালিকরা খরচ কমিয়ে বাড়তি টাকা আয়ের জন্য অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে থাকেন। কেউবা নিজের বাসাবাড়ির বিদ্যুৎ দিয়ে চালাচ্ছেন চার্জিং পয়েন্ট। বাণিজ্যিক ব্যবহারে আবাসিক বিদ্যুৎ ব্যবহারে রাজস্ব হারাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এই অনিয়ম বন্ধে মাঠে নামছে যশোর জেলা প্রশাসন। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে নির্ধারিত পশু হাটের বাইরে সড়ক বা মহাসড়কে পশুহাট না বসাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পশুহাটে পশু আনা নেয়ার পথে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জালনোট বন্ধে কঠোর মনিটরিংয়ে থাকবে জেলা প্রশাসন। শহরে যানজট নিরসনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। রাস্তা বা ফুটপাতে যে সব হকার ব্যবসা পরিচালনা করেন তাদের টাউনহল মাঠ বা অন্যকোন জায়গায় স্থানান্তর করা হবে। হঠাৎ করে উচ্ছেদ করলে যাতে তারা পথে বসে না যান মানবিক কারণে সভায় স্থানান্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে ভোজ্য তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে বাজার তদারকি, কিশোর গ্যাং ও মাদক বিরোধী অভিযান, রাস্তা বা সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রেখে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় অভয়নগের নওয়াপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের হত্যাকারীদের দ্রুত আটক করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সবার সার্বিক সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান। আসন্ন ঈদুল আযহায় পশুহাট, ঈদের কেনাকাটা ও ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন রাখতে আইন শৃংখলা রক্ষায় জিরো টলারেন্স থাকবে। এ সময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা শিক্ষার্থীদের মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে বইমুখি করা। এজন্য যশোরে বইমেলার আয়োজন করা হবে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের জন্য নেয়া হবে বই পড়ার প্রতিযোগিতা।
সভায় বক্তৃতা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগ যশোরের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম, এনএসআই যশোরের যুগ্ম পরিচালক আবু তাহের মোহাম্মদ পারভেজ, বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভূপালী সরকার, যশোর চেম্বার এন্ড কমার্স ইন্ডাস্ট্র্রিজের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক অনিতা মল্লিক প্রমুখ।
মন্তব্য করুন