
যশোরের পাঁচবাড়িয়ায় রাজনৈতিক পদধারীর পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ নুরজাহান আক্তার বেবি ওরফে ফুটকলির মামলা রেকর্ড ও অভিযুক্তকে আটকের দাবিতে এবার জেলা প্রশাসক ও এসপির কাছে অভিযোগ করেছেন। তাকে গ্রামের রাস্তার মোড়ে ফেলে বেদম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নির্যাতন ঘটনার বর্ননা দিয়ে স্থানীয় নেতা ইকরামুলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশ কাজ করেনি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা তালবাড়ীয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি তামিম ইকরামুলকে আটক করেননি, এমনকি একদিনও বাড়িতে পর্যন্ত যাননি। এছাড়া ঘটনার ৪ মাস পার হলেও থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়নি উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত গৃহবধূ ও তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে লিপ্ত রয়েছে। যেকোন সময় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলেও এসপি ও ডিসির কাছে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে। থানায় দেয়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র থেকে তথ্য মেলে, পাঁচবাড়িয়া গ্রামের খন্দকার পাড়ার মোজাহার খন্দকারের মেয়ে ও রাজু চৌধুরীর স্ত্রী নুরজাহান আক্তার বেবি ওরফে ফুটকলি (২৮)। তার সংসার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে চৈতী ও ৬ বছরের ছেলে আলিফকে নিয়ে। হত দরিদ্র ফুটকলি গ্রামের জামতলা মোড়ে ভাজাপোড়া বিক্রি করে সংসার চালান। হঠাৎ গত ৩ জানুয়ারি তার অস্থায়ী ভাজাপোড়ার ওই দোকানে গিয়ে চড়াও হন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা ইকরামুল ও তার কয়েক সহযোগী। ফুটকলির উপর ওই নেতা পৈশাচিক নির্যাতন চালান। আধাঘন্টা ব্যাপি তাকে বেধড়ক মারপিট করে ফেলে রাখা হয়। স্থানীয়রা ভয়ে কেউ ঠেকাতে এগিয়ে আসেননি। এক পর্যায়ে ওই নেতা ও তার লোকজন চলে গেলে কয়েকজনের সহযোগিতায় তার মেয়ে মাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়। এদিকে, এ ঘটনায় থানায় ৪ জানুয়ারি অভিযোগ দেয়া হয় ইকরামুল সরদারসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জন গত ৩ জানুয়ারি রাত ৯ টায় জামতলা মোড়ে ফেলে ফুটকলির উপর এলোপাতাড়ি নির্যাতন করে। আর রাত ১১ টার সময় তার বাড়িত চড়াও হয়ে ভাংচুর করে। সূত্র জানায়, ২০১৯ সালে করা মামলা তুলে না নেয়ায় ফুটকলির উপর নির্যাতন চলেছে বলে বলা হয়। ফুটকলির দশম শ্রেণি পড়ুয়া বড় মেয়ে নিলুফার সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলে একই গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে রায়হান। আর রায়হান নিলুফাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোই সে আত্মহত্যা করে। ওই সময় মেয়ের আত্মহত্যার জন্য রায়হানসহ ওই পরিবারের আরো কয়েকজনকে দোষী করে মামলা করেন ফুটকলি। ওই মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিল্লাল হোসেন ও রায়হান ওই ইকরামুলের স্মরণাপন্ন হন। বিল্লাল হোসেনের কাছ থেকে টাকায় তুষ্ট হয়ে ইকরামুল ৩ জানুয়ারি ফটুকলির উপর পৈশাচিক নির্যাতন চালায়। এসব ঘটনায় অভিযোগ দেয়া হলে ৪ মাসেও মামলা রেকর্ড কিংবা অভিযুক্ত ইকরামুল আটক না হওয়ায় গত ৫ মে এসপি ও ডিসি কাছে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
মন্তব্য করুন