
যশোরে গ্রাম পর্যায়ে দ্রুত ও কম খরচে বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালত কার্যক্রম দৃশ্যমান সাফল্য দেখিয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ২৬ মাসে জেলায় গ্রাম আদালতে মোট ৬ হাজার ১৯১টি মামলা দায়ের হয়েছে। অপেক্ষমান মামলা ছিল ১২৪টি। এসময়ে বিপরীতে নিষ্পত্তি হয়েছে ৬ হাজার ১৯৫টি। অর্থাৎ নিষ্পত্তির হার ১০০ শতাংশেরও বেশি। এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের অনুকূলে মোট ১০ কোটি ৭৭ লাখ ৮৫ হাজার ৬৪০ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। গড়ে একটি মামলা নিষ্পত্তিতে সময় লেগেছে মাত্র ১০ দিন। এই সাফল্য ও জনসচেতনতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বুধবার (৬ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পের আওতায় সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। সভায় জানানো হয়, মোট দায়েরকৃত মামলার মধ্যে ৫ হাজার ৫৫৪টি সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদে এবং ৬৩৭টি জেলা আদালত থেকে প্রেরিত হয়েছে। মামলার ধরন অনুযায়ী দেওয়ানি ৩ হাজার ২৭৩টি এবং ফৌজদারি ২ হাজার ৯১৮টি। আবেদনকারীদের মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ২৩ জন এবং নারী ২ হাজার ১৬৮ জন। যা গ্রাম আদালতে নারীর অংশগ্রহণও ক্রমবর্ধমান হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সভায় প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রফিকুল হাসান বলেন, গ্রাম আদালত সক্রিয় হওয়ায় স্থানীয় বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে, ফলে মানুষকে উচ্চ আদালতে গিয়ে সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমছে এবং আদালতের মামলার চাপও হ্রাস পাচ্ছে। বিশেষ অতিথি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মিরাজুল ইসলাম বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে মানুষের ধারণা বাড়লে থানায় মামলা দায়েরের প্রবণতা কমবে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। প্রকল্পের ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার অ্যাড. মহিতোষ কুমার রায় জানান, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সহজ, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এখনো অনেক মানুষ এ ব্যবস্থার বিষয়ে অবগত নয়—যা দূর করতে ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন। সভায় সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন