
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় চলতি ইরিগেশন মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা ও মজুর সংকটের কারণে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকেরা।
উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন সোনালী ধানে ভরে উঠেছে। মাঠজুড়ে ধান কাটার ব্যস্ততা চলছে কৃষক ও কৃষাণীদের মধ্যে। কাঙ্ক্ষিত ফলনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছেন তারা।
এ বছর সরকার নির্ধারিত ধান সংগ্রহ মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বস্তা প্রতি (৪০ কেজি) দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফাতেমা সুলতানা জানান, এবার সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২ হাজার মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হবে। তবে বর্তমান বাজারে ধানের দাম ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা মন হওয়ায় বাজারমূল্যের চেয়ে সরকারি দাম বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নের ৩৪টি ব্লকে মোট ১৯ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: নুরুল ইসলাম জানান, বাম্পার ফলনের কারণে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
চাষাবাদে ব্রি-৫০, ব্রি-৬৩, ব্রি-৮৯, ব্রি-১০১ ও ব্রি-১০২ জাতের ধান বেশি হয়েছে। পাশাপাশি রড মিনিকেট ও বাসমতি ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহও বেড়েছে।
তবে কৃষকেরা বলছেন, উৎপাদন খরচ ও বাজারমূল্যের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। তাদের দাবি, বিঘাপ্রতি ১৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা খরচ হলেও উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্য তুলনামূলক কম। তবে কৃষি বিভাগের দাবি, সরকারি প্রণোদনা ও ভর্তুকির কারণে কৃষকের লোকসান হওয়ার কথা নয়।
এদিকে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বছর বোরোর ফলন ভালো হলেও কিছু নিচু এলাকায় ভারী বৃষ্টির কারণে পানি জমে ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে মল্লিকপুরসহ কয়েকটি এলাকায় কাটা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি মজুর সংকটের কারণে সময়মতো ধান ঘরে তুলতে না পারায় কিছু ক্ষতি হচ্ছে।
একই সময়ে ধান কাটার চাপ বেড়ে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তি মজুরি দিয়েও ক্ষেতমজুর পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। এতে কৃষক পরিবারগুলো ধান সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে।
আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি ও দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকেরা উদ্বেগে রয়েছেন। তবে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার কৃষকেরা ভালো লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন