
যশোরে প্রবাসীর স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটি পরিবার ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের অভিযোগে কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা কেরামত আলী গাজী (৮৩) থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ছেলে মুরশিদ গাজী প্রায় আড়াই বছর ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। স্ত্রী ইশিতা আক্তার (২৮) দুই সন্তান—ওমর (৮) ও ইউসুফ (৩)-কে নিয়ে শেখহাটি হঠাৎপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, সময়ের সঙ্গে ইশিতার জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়তা বাড়ে এবং পরিবারের বাধা উপেক্ষা করে তিনি একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। স্থানীয় ভেকুটিয়া এলাকার যুবক সোহেল রানার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে গোপন প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। প্রতিবেশীদের কাছে সোহেলকে তিনি আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ২২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে কেরামত আলী গাজী পুত্রবধূর বাসায় গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান। পরে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে জানা যায়, ইশিতা তার দুই সন্তানকে নিয়ে সোহেল রানার সঙ্গে চলে গেছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সম্পর্কে জড়াতে ইশিতাকে তার মা আকলিমা খাতুন প্ররোচিত করেছেন। এমনকি প্রায় দেড় বছর আগে গোপনে সোহেল রানাকে বিয়েও করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, বিদেশে যাওয়ার আগে মুরশিদ গাজী স্ত্রীর কাছে প্রায় ৭ লাখ টাকা ও চার ভরি স্বর্ণ রেখে যান এবং পরে বিদেশ থেকে আরও ৫ লাখ টাকা পাঠান। ওই অর্থ ও স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়েই ইশিতা উধাও হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে পরিবারটি থানায় অভিযোগ করে। কোতোয়ালী মডেল থানার ডিউটি অফিসার এসআই আশরাফ জানিয়েছেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন