
সামান্য বৃষ্টিতে প্যাঁচপ্যাচে কাদা আর পানি, বর্ষা মৌসুমে ভোগান্তি কোথায় পৌঁছবে তা নিয়ে এখনই দুশ্চিন্তায় যশোর শহরের খড়কি শাহ আব্দুল করিম সড়কের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরেই যেনো দুর্ভোগের অপর নাম যশোর সরকারি এম এম কলেজ সংলগ্ন শাহ্ আব্দুল করিম সড়ক। যদিও সড়কটি পুনঃনির্মাণকাজ চলছে। কিন্তু এই কাজের ধীরগতিতে হতাশ এলাকাবাসী দ্রুত ভোগান্তির সমাধান চান।
যশোর সরকারি এম.এম কলেজের দক্ষিণগেট সংলগ্ন সড়ক শাহ্ আব্দুল করিম সড়ক। বছরের পর বছর ধরে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়কে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। আর বর্ষায় ভোগান্তি চরমে পৌঁছে। হাঁটু সমান পানি ভেঙ্গে পথ চলাচল ও নিত্যকার যাবতীয় কাজ সম্পাদন করেন এ এলাকার বাসিন্দা ও রাস্তা চলাচলকারীরা। পানি নিষ্কাশনে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে এ সড়কটিতে এমন বেহাল দশা চলছে। তিন দশক ধরে এ এলাকার বাসিন্দা, সরকারি এম.এম কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এখানকার ব্যবসায়ী, দোকানী ও পথ চলাচলকারীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বড় বিদ্যাপীঠ যশোর সরকারি এম এম কলেজের মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও এ সড়কের পাশে রয়েছে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোচিং সেন্টার, আবাসিক প্রকল্প, স্টেশনারি এবং ফটোকপি স্টোর, ফাস্ট ফুড শপ, বাংলা খাবারের দোকান, মুদিখানা, সবজির দোকানসহ নানান ধরনের দোকানপাট। সামান্য বৃষ্টিতে এ পথে স্কুল-কলেজে যাতায়াত, রাস্তা পারাপার, বাজার ও সদাইপাতি কেনাকাটা, কোচিং ক্লাস করাসহ প্রয়োজনীয় নানান কাজ সারতে দুর্ভোগে পড়তে হয় শহরবাসীকে। কোথাও উঁচু, কোথাও নীচু, জায়গায় জায়গায় খানাখন্দে ভরা সড়কটিতে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। শিশু, বৃদ্ধ ও রোগী নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় এ রাস্তা চলাচলকারীদের। সংস্কারের অভাবে দশকের পর দশক ধরে এমনি তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন শহরবাসী।
নয় মাস আগে যশোর পৌরসভা এ সড়কটির সংলগ্ন ড্রেন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি চলে শাহ্ আব্দুল করিম সড়ক সংস্কারের কাজ। ড্রেনের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেলেও মন্থর গতিতে চলছে সড়ক সংস্কারের কাজ। তাই এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, দোকানী, সড়ক চলাচলকারী সকলে অতি সত্ত্বর ড্রেন সংস্কার ও বর্ষা মৌসুমের আগে সড়কে খোয়া ফেলে হলেও কিছুটা ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে এখানকার ড্রেন ও সড়ক সংস্কার ছাড়াও পাশাপাশি একগুচ্ছ উন্নয়ন কর্মকান্ডের কথা বলা হয়েছে যশোর পৌরসভার তরফে। জুন মাসের মধ্য পৌর এলাকার বিভিন্ন প্রান্তের ড্রেন সংস্কার ও ডিসেম্বর মাস নাগাদ শাহ আব্দুল করিম সড়ক সংস্কার কাজ শেষ হবে এমনটাই বলা হয়েছে।
শাহ্ আব্দুল করিম সড়ক এলাকার স্টেশনারি ব্যবসায়ী জালালউদ্দিন বলেন, ৩০বছর ধরে এ দোকানের ব্যবসা করছি, সামান্য বৃষ্টিতে থৈ থৈ পানি আর কাদা, চলাচল করাই দায় হয়ে পড়ে। বর্ষাকালের কথাতো কল্পনাতীত। সীমাহীন কষ্ট হয় এ রাস্তা চলাচলকারীদের। আমি ২০বছরেরও বেশি সময় ধরে এ রাস্তাটি এমনই দেখছি।
সরকারি এমএম কলেজের শিক্ষার্থী ঈশিতা আজম ও সুমাইয়া ইয়াসমিন বলেন, আমরা দুজনে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত, আমাদের শিক্ষাজীবন শেষ হতে চললো এ রাস্তাটি এখনো সংস্কার হলো না। স্থানীয় ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী গণেশ সাহা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে যায়, মালামাল নষ্ট হয়, বর্ষাকালের কথাতো বাদই দিলাম।
এলাকাবাসী জবেদ আলী বলেন, কখনো মোবাইল পানিতে পড়ে নষ্ট হয়েছে তো কখনো এখানে পড়ে গিয়ে হাত পা ভেঙ্গেছে কত কত মানুষের। এখানে দুর্ঘটনা নিত্যকার ঘটনা।
স্কুল শিক্ষক মাসুম বিল্লাহ বলেন, ভোগান্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না। বৃষ্টি ও বর্ষায় দুর্ঘটনা নিত্যসঙ্গী এ এলাকার বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও দোকানীদের। এ সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি মানুষ জানেন কি অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আমাদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব এ রাস্তাটি যেন ব্যবহার উপযোগী করা হয়।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার সহকারি প্রকৌশলী শিকদার মোখলেসুর রহমান বলেন, বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলো যত দ্রুত সম্ভব আমরা শেষ করার চেষ্টা করছি। এরমধ্য সরকারি এম.এম কলেজ দক্ষিণগেট সড়ক, চোরমারা দীঘি এলাকায় রাস্তা নির্মাণ, চোপদারপাড়াায় ড্রেন নির্মাণ, জুন মাসের মধ্য শহরের বিভিন্ন প্রান্তের নির্মাণাধীন ড্রেনের কাজ শেষ করা এবং ডিসেম্বর মাসের মধ্য শাহ্ আব্দুল করিম সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। ততদিন পর্যন্ত সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।
মন্তব্য করুন