মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রেসিডেন্ট জিয়ার স্মৃতিরক্ষায় যাদুঘর দাবি

উলশীতে নতুন স্বপ্নের সারথী তারেক রহমান

মিলন রহমান
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৪ এএম
ছবি : গ্রামের কাগজ

পঞ্চাশ বছর পর উলশীর মানুষ আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন। আর এ স্বপ্নের সারথী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক উদ্যোগ ক্ষমতার পালাবদলে ঢাকা পড়লেও আবার তা জাগিয়ে তুলতে আজ তিনি যাচ্ছেন শার্শার উলশীপাড়ে উলশী খাল খননের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রাক্তন আনসার সদস্য ওমর আলী যেনো স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। বললেন, '১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হেলিকাপ্টারে এসে নামেন উলাশী প্রাইমারি স্কুল মাঠে। এরপর হেঁটে আসেন উলশী খাল কাটার স্থানে প্রেসিডেন্ট জিয়া এসে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে করে রশিদ চাচার মাথায় তুলে দেন। এরপর আমরা সাধারণ মানুষ ঝুড়ি কোদাল নিয়ে খাল কাটা শুরু করি। কোনো টাকা পয়সা না নিয়েই হাজার হাজার মানুষ এই খাল কেটেছে। বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এই খালটি কাটার পর এই এলাকার বিলগুলোতে সোনার ফসল ফলেছে।'

বয়োবৃদ্ধ ওমর আলীর আশা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার আসছেন এই খাল কাটতে। ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি চালু হলে ফের ওই বিলগুলোতে আরও বেশি ফসল ফলবে। শুধু ওমর আলী নন, যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী যদুনাথপুর এলাকার মানুষ এই খাল নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন বুনছেন।

তারা জানান, পাঁচ দশক আগে যশোরের শার্শা উপজেলা উলাশী এলাকার বিভিন্ন বিলের হাজার হাজার একর বিস্তীর্ণ জমি বছরের বড় অংশ জুড়ে পানির নিচে থাকত। কৃষকরা ফসল ফলাতে পারতেন না, এলাকায় ছিল তীব্র দারিদ্র্য। এই পরিস্থিতি বদলাতে উদ্যোগ নেন প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি নিজে কোদাল হাতে নিয়ে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই খাল খননের সূচনা করেন। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন। মাত্র ছয় মাসের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলশী-যদুনাথপুরে প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয়রা জানান, যশোরের শার্শা উপজেলার বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরের সেই খালটি এখন মৃতপ্রায়। প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার খালটির প্রাণ ফেরাতে বাবার (জিয়াউর করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৭ এপ্রিল তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে শার্শাবাসীর মধ্যে আনন্দ উল্লাস ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ফের আশায় বুক বেঁধেছেন। খালটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেলে ওই বিলগুলো ফের সোনার ফসলে ভরে উঠবে। রহমান) দেখানো পথে কোদাল হাতে এবার খাল খনন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস চোখে পড়ে এক স্মৃতিস্তম্ভ। খালের ধারে গাছতলায় দাঁড়িয়ে থাকা ফলকে খোদাই করা আছে, 'আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার, অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার।' আর লেখা আছে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগের কথা-উলাশী-যদুনাথপুর বেতনা নদী সংযোগ প্রকল্প। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ফলকের অপর পাশে উল্লেখ রয়েছে, ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল প্রকল্প শেষে তিনি আবারও এখানে আসেন। উলাশীর পার্শ্ববর্তী ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর বাগ গ্রামের সাবেক মেম্বার আলী মোল্ল্যা (৯০) স্মৃতিচারণ করে বলেন, খাল কাটতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হেলিকপ্টারে করে এসে স্কুল মাঠে নামেন। তিনি নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে ঝুড়িতে ভরেন। খাল খননের উদ্বোধনের দিনে সেখানে বিপুল মানুষের সমাগম হয়েছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ছাড়াও সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা খাল কাটার কাজে অংশ নেন। তিনি আরও জানান, হাজার হাজার মানুষ কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই খাল কাটার কাজে যুক্ত হয়েছিলেন। কাজের বিনিময়ে তাদের শুধু দুপুরে রুটি ও গুড় দেওয়া হতো। খালের পাড়ে একতলা ওই ভবনে রুটি তৈরি করা হতো, আর সেটাই খেয়ে সবাই কাজ চালিয়ে যেতেন। রাষ্ট্রপতির প্রতি ভালোবাসা থেকেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কাজে অংশ নিয়েছিল। খাল কাটায় অংশ নেওয়া এবং পরবর্তীতে সারথী স্বনির্ভর কর্মসূচির স্কুলে শিক্ষকতা করা মাস্টার আজিজুল হক বলেন, এখানে বেতনা নদী ঘোড়ার খুড়ের মতো। উলাশী থেকে বেতনা নদী ১৬ কিলোমিটার ঘুরে যদুনাথপুর গ্রাম দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। উলশীর সঙ্গে খাল কেটে যদুনাথপুরের সংযোগ সাধন করা গেলে এ দূরত্ব প্রায় ১১.৬ কিলোমিটার কমে যাবে। এতে বনমান্দার, সোনামুখী, কাগমারী, রাজাপুরসহ বিভিন্ন বিলের পানি দ্রুত এই খাল দিয়ে নেমে যাবে। এতে এই বিলের হাজার হাজার একর জমিতে চাষাবাদ করা সম্ভব হবে। আবার এই খাল ও নদীর পানি সেচ দিয়েও চাষাবাদে ব্যবহার করা যাবে। এই ধারণাকে সামনে নিয়ে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এই খাল কাটা হয়। খাল কাটার পর এলাকার সেই সাফল্যও ধরা দেয়। এলাকায় সবুজ বিপ্লব ঘটে। খাল কাটায় অংশ নেওয়া উলাশী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মাওলা বক্স বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ ধরে তার ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলাশীতে আসছেন সেই খাল আবার কাটতে। উলাসীতে খাল খননের পর ওই পাঁচটি বিলের প্রায় ২২ হাজার একর জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ শুরু হয়। পাশাপাশি খালের দুই পাশে সেচের জন্য প্রায় ২০টি পাম্প স্থাপন করা হয়। এর ফলে এ অঞ্চলে ইরি (বোরো) ধানের চাষের প্রচলন ঘটে। খাল খনন কর্মসূচি সফল হওয়ায় এলাকাটি ধীরে ধীরে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে। উলাসী গ্রামের বাসিন্দা আহমদ আলী বলেন, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খাল মরে গেছে। পুনরায় খাল কেটে সচল করতে হবে। মাটি ভরাট হয়ে যাওয়া খালটি খনন করে পুণরায় চালু করা সম্ভব হলে এই বিলগুলোতে আরও ফসলের চাষাবাদ হবে। এলাকার মানুষ সেই আশায় বুক বেঁধে

আছেন ইতিহাস ধরে রাখতে স্মৃতি যাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্র দাবি

এই খাল খনন ঘিরেই গ্রহণ করা হয়েছিল সারথী প্রকল্প। সারথী প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল পূর্ণ নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নিশ্চয়তা, খাদ্য উৎপাদনে উদ্বৃত্ত হওয়া, সার্বিক উৎপাদন দ্বিগুণ করা ইত্যাদি। সারর্থী প্রকল্পের অধীনে সংযোগ খালে নাইলোটিকার ১০ হাজার পোনা ছাড়া হয়, প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করে ১১৯ টি প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়, ২০০ নগ্নপদ চিকিৎসককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, খালের দু পাড়ে লাগানো হয় ১৫০০০ খেজুর গাছের চারা, মহিলাদের ১৯টি সমিতি গঠন করে প্রত্যেক সমিতিকে দেওয়া হয় একটি করে রেডিও, ইউনিয়ন সহকারী ও প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের প্রত্যেককে দেওয়া হয় একটি করে সাইকেল এবং যন্ত্রচালিত সেচের জন্য ২২টি গভীর নলকূপ ও ৩৩টি পাওয়ার পাম্প বসানো হয়। সারাদেশের প্রথম এবং স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা প্রকল্পটিকে ঘিরে অনেক কর্মযজ্ঞ ছিল, ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনেক স্মৃতিচিহ্ন। কিন্তু আজ আর তার কিছু অবশিষ্ট নেই।

খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উলাশী গ্রামের চা দোকানী বৃদ্ধ আব্দুল গফুর পরিত্যক্ত ঘরটি দেখিয়ে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে একাধিকবার এসেছেন এখানে তার বিশ্রাম নেওয়ার জন্য একটি খাটও ছিল পাশাপাশি বিভিন্ন আসবাবপত্র ছিল; ছিল এই প্রকল্পের বিস্তারিত তুলে ধরা একটি ম্যাপ। কিন্তু আজ আর তার কিছু নেই। পরিত্যক্ত ভবনটির দরজা জানালাও নেই।'

খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া উলাশী গ্রামের প্রাক্তন আনসার সদস্য ওমর আলী বলেন, '১৯৭৬ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এখানে এসে খাল কেটে নতুন দিনের শুরু করেছিলেন। বেতনা নদীর সংযোগ উলাসী-যদুনাথপুরে প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার এই খালটি কাটার পর এই এলাকার বিলগুলোতে সোনার ফসল ফলেছে। সারথী প্রকল্প ঘিরে অনেক কিছুই এখানে ছিল। খাল কাটার পাশাপাশি স্কুল হয়েছিল, সেচপাম্প বসেছিল, সমিতি করে রেডিও দেওয়া হয়েছিল, মাছ চাষ, বায়োগ্যাস, গাছ লাগানো-অনেক কর্মকান্ডই ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর সেসব আর এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

খাল কাটা কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এবং পরবর্তীতে সারথী স্বনির্ভর কর্মসূচির স্কুলে শিক্ষকতা করা মাস্টার আজিজুল হক বলেন, খাল খনন কাজ চলাকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খালের পাড়েই একটি সাধারণ ভবনে রাত্রিযাপন করেন। পরে ওই ভবনটি সরকারি কর্মকর্তাদের বৈঠক ও কৃষকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। কিন্তু সেই ভবনটি এখন পরিত্যক্ত। সময়ের বিবর্তনে ভবনের ভেতর থাকা শহীদ জিয়ার ব্যবহৃত ফ্যান, খাট, টেবিল, চেয়ারসহ মূল্যবান স্মৃতিচিহ্ন লুট হয়ে গেছে। সেখানে এখন শুধু পড়ে আছে ভাঙা দেওয়াল আর আগাছা।

তিনি বলেন, খালের পাড়ে নির্মিত ঐতিহাসিক 'জিয়া মঞ্চ'ও আজ বিলুপ্তির পথে। যেখানে এক সময় উন্নয়নের শপথ নেওয়া হতো, সেই মঞ্চের একদিকে গড়ে তোলা হয়েছে গুচ্ছগ্রাম। অপরদিকে উলাশী ইউনিয়ন ভূমি অফিস।

মাস্টার আজিজুল হক আরও বলেন, এই খালটি দুই প্রজন্মের রাষ্ট্রপ্রধানের স্মৃতিবিজড়িত প্রকল্প। আর এটি এমন এক প্রকল্প যা সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাই প্রকল্প, কর্মকা- ও ইতিহাসকে বাঁচিয়ে রাখা দরকার। এজন্য পরিত্যক্ত এই ভবনটিকে ঘিরে স্মৃতি যাদুঘর ও বিনোদন বা অবকাশ কেন্দ্র করা যেতে পারে। যেখানে শিশুরা এসে খেলাধুলা করতে পারবে, বৃদ্ধরা এসে বিশ্রাম নিতে পারবে। আর সব বয়সী মানুষ এসে ছুঁয়ে দেখতে পারবে খাল কাটার সেই ইতিহাসকে।'

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কেশবপুরে ভূমি সহকারীর বাড়িতে অজ্ঞান পার্টির হানা

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

X