
সাম্প্রতিক কালবৈশাখী ঝড়ে মণিরামপুরের ঝাঁপা মাধ্যমিক আদর্শ বালিকা বিদ্যালয়ের টিনসেটের দুটি শ্রেণিকক্ষের চাল উড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষ দুটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি ঢুকে মেঝে নষ্ট হয়ে গেছে এবং টিনের চাল উড়ে যাওয়ায় রোদ-বৃষ্টির মধ্যে সেখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের গাছতলায়, খোলা আকাশের নিচে বসে পাঠদান করতে হচ্ছে। তীব্র গরমে এমন পরিস্থিতিতে পাঠদান চালিয়ে যেতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী জানায়, “আমরা খুব কষ্ট করে গাছের নিচে বসে ক্লাস করছি। রোদে বসে থাকতে হয়, গরমে মাথা ঘুরে যায়। ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না। আমাদের পরীক্ষা সামনে, কিন্তু এই অবস্থায় প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা চাই, দ্রুত আমাদের শ্রেণিকক্ষগুলো ঠিক করে দেওয়া হোক।” জানা যায়, ১৯৯৪ সালে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার শুরুতে শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন-ভাতা না পেলেও শিক্ষার মান ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে শুরু করেন। বিদ্যালয়টির অবকাঠামো উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ, বেঞ্চ-ডেস্ক সরবরাহ থেকে শুরু করে বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের বড় একটি অংশ এখনো শিক্ষকরা নিজেদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে করে থাকেন। সরকারি পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগই বিদ্যালয়টিকে টিকিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছাত্রী অধ্যয়ন করছে এবং প্রতিবছর ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি তার সুনাম বজায় রেখে চলেছে। চলতি বছরও এ বিদ্যালয় থেকে ১৭ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসেন বলেন, “হঠাৎ করে কালবৈশাখী ঝড়ে আমাদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আমাদের পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের খোলা আকাশের নিচে ক্লাস নিতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য খুবই কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে এই প্রচণ্ড গরমে তারা ঠিকমতো ক্লাসে মনোযোগ দিতে পারছে না। আমরা সবসময় নিজেদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজ করে আসছি, কিন্তু এই ধরনের বড় ক্ষতি মোকাবিলা করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সহযোগিতা কামনা করছি, যেন দ্রুত শ্রেণিকক্ষগুলো পুনর্নির্মাণ করা যায় এবং স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রেণিকক্ষগুলো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
মন্তব্য করুন