
যশোরে দুলাভাই মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আলোচনায় উঠে আসা সেই শালিকা সামিয়া আফরোজ এবার যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। রোববার দুপুরে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, পুরো ঘটনাই ছিল একটি সাজানো নাটক, যার স্ক্রিপ্ট তৈরি করেছিলেন যশোরের সাংবাদিক নামধারী আসিফ আকবর সেতুসহ আরও কয়েকজন। এমনকি ধর্ষণের মামলার বিষয়টিও তিনি জানতেন না বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, বড় বোনের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সেতু চক্রের প্ররোচনায় পড়েছিলেন। এমনকি তার দুলাভাই ডা. রাফসানের কোনো দোষ নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ওই সাংবাদিক চক্র তার এবং তার দুলাভাইয়ের কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ করেন সামিয়া। এ ঘটনার যশোরের এশিয়ান টিভির সাংবাদিক হাসিবুর রহমান শামীমসহ মণিরামপুরের কয়েকজন সাংবাদিকও জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে সামিয়া তার বোন সাজেদা আফরোজ ও দুলাভাই ডা. রাফসানের সঙ্গে যশোরে বসবাস শুরু করেন। ছোট বোন ও দুলাভাইয়ের পারিবারিক স্বাভাবিক মেলামেশাকে কেন্দ্র করে বড় বোন সাজেদার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে প্রায়ই সামিয়াকে কটু কথা শুনতে হতো। এসএসসি পরীক্ষার পর সামিয়া নিজ বাড়ি লালমনিরহাটে ফিরে গেলেও বোনের সন্দেহ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচামূলক স্ট্যাটাস তাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
রাগের মাথায় বড় বোনকে জব্দ করতে কিছু পারিবারিক ছবি ব্যবহার করে পরিচয় গোপন রেখে মেসেজ পাঠালে একটি কথিত সাংবাদিক চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ‘স্বদেশ বিচিত্রা’র সাংবাদিক আসিফ আকবর সেতু এবং ‘সার্চ টুডে’র সাংবাদিক ও ক্লিনিক ম্যানেজার নূর ইসলাম নাহিদ সামিয়ার সরলতা ও ক্ষোভকে পুঁজি করে ডা. রাফসানের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না পেয়ে তারা সামিয়াকে ভয় দেখায় যে ডা. রাফসান তাকে ‘পয়জন ইনজেকশন’ দিয়ে পাগল করে দেবে অথবা মানহানির মামলা করবে।
এই আতঙ্কে সাংবাদিকরা তাকে দিয়ে সাজানো স্ক্রিপ্টে ভিডিও সাক্ষাৎকার নেয় এবং হাতিবান্ধা থানায় জিডি করতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে তাকে মণিরামপুর থানাতেও নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুই দিন জিম্মি করে রেখে পরিবারের অগোচরে ডা. রাফসানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনে মামলা করানো হয়।
সামিয়া বলেন, তাকে জিম্মি করে এই চক্রটি ডা. রাফসানের কাছে মুক্তিপণ ও চাঁদা দাবি করছিল। তার সই নিয়ে মামলার কপিতে ধর্ষণের যে অভিযোগ লেখা হয়, তা তার অজানা ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, এই চক্রের সঙ্গে মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি জাকির হোসেন, তহিদুল ইসলাম, সুমন চক্রবর্তী, নূর ইসলাম নাহিদ, তাজাম্মুল হোসেন এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের ব্যক্তিরাও জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের সঙ্গে তাদের ছবি সম্বলিত বায়োডাটাও সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
সামিয়া বলেন, মামলার পর তিনি সেফ হোমে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি বুঝতে পারেন যে তাকে দাবার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এই চক্রটি চাঁদাবাজির একটি বড় পরিকল্পনা করেছিল। বিষয়টি অনুধাবন করেই তিনি এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
উল্লেখ্য, এই শালিকা এর আগে দুলাভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে একাধিক ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। এরপর ওই দুলাভাই সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। এ ঘটনায় রাফসানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ডিবিসির জেলা প্রতিনিধি। সর্বশেষ রোববার শালিকা নিজেই এসে এসবকে সাজানো নাটক বলে দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, সামিয়া আফরোজের মা সেলিনা খাতুন, বাবা সাজেদুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা।
মন্তব্য করুন