
যশোরের ঐতিহ্যবাহী খড়কী দরবার শরীফে উপমহাদেশের প্রখ্যাত সুফি সাধক হযরত মাওলানা শাহ সুফী মোহাম্মদ আব্দুল করিম (কুঃসিঃআঃ)-এর ১৩৭তম বার্ষিক পবিত্র ওরস শরীফ যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিতে ওরস অনুষ্ঠিত হয়।
এ বছর ওরস মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খড়কী পীর বাড়ির কৃতি সন্তান ও যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল, জিকির-আযকার এবং আখেরি মোনাজাতসহ বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মিলনমেলায়।
মাহফিলে বক্তারা ইসলামের আধ্যাত্মিক ধারা ‘তাসাউফ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হযরত শাহ সুফী মোহাম্মদ আব্দুল করিম (কুঃসিঃ আঃ) ছিলেন এই সাধনার এক উজ্জ্বল পথপ্রদর্শক। তাসাউফ মানুষের নফসের পরিশুদ্ধি এবং সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপনের পথ দেখায়।
তারা আরও বলেন, সুফি সাধনার মূল শিক্ষা হলো অহংকার ত্যাগ, মানবতার সেবা এবং ভালোবাসার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। খড়কী পীর বাড়ির আধ্যাত্মিক পরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে সহনশীলতা, নৈতিকতা ও পরমতসহিষ্ণুতার শিক্ষা দিয়ে আসছে।
ওরস উপলক্ষে ফজরের পর থেকেই পুরো এলাকা জিকির ও তাসবীহ পাঠে মুখরিত হয়ে ওঠে। ভক্তরা দলবেঁধে মাজার জিয়ারত করেন এবং পীর সাহেবের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জানান, এ ধরনের আধ্যাত্মিক আয়োজন তাদের মনে শান্তি ও সৎ পথে চলার প্রেরণা জোগায়।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশ-জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি কামনায় আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে হাজারো ভক্ত আবেগাপ্লুত হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ও হেদায়েত প্রার্থনা করেন।
আয়োজকরা জানান, তাসাউফের এই ইতিবাচক শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেওয়াই এই ওরসের মূল উদ্দেশ্য।
মন্তব্য করুন