
বিয়ের আড়াইমাসের মাথায় বাড়িতে ডেকে নিয়ে আটকে রেখে সন্ত্রাসী ভাড়া করে জোরকরে তালাক নামায় সাক্ষর করে নেয়ার অভিযোগ করেছেন খালেদা খানম (৩৩) নামে এক নারী। তিনি নড়াইল সদর উপজেলার মহিষাখোলা গ্রামের সাঈদ শেখের মেয়ে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে তারা হলেন, যশোর শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লা পাড়ার পরিবহন ব্যবসায়ী বর্তমানে বকচর হুশতলা বৌবাজারের পাশের মৃত হোসেন আলীর ছেলে ইসমাইল ভূঁইয়া (৬৫), বকচর হুশতলা বৌবাজারের পাশের যুবদল নেতা আব্দুর রউফ, কামরুল ইসলাম এবং ইসমাইল হোসেনর ছেলে ।
খালেদা খানম অভিযোগ করেছেন, যশোরের একটি অনুষ্ঠানে ইসমাইলের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর প্রেম এবং পরে চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি ৫ লাখ টাকা দেনমোহরানায় বিয়ে হয়। ইসমাইলের প্রথম স্ত্রীসহ পরিবারের সকলে বিয়টি জানতেন। বিয়ের পর নড়াইলের একটি বাড়ি ভাড়া করে সেখানেই থাকতেন। গত ২৯ মার্চ বিকেলে যশোরের বকচরের বাড়িতে যেতে বলেন ইসমাইল। তিনি সেখানে গেলে সন্ধ্যার দিকে মিমাংশার কথা বলে কামরুলের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে মারপিট করে, নানা হুমকি দিয়ে তালাক নামায় সই করতে বলে। তিনি সই না করায় তাকে দুইদিন ওই বাড়িতে আটকে রাখে। এক পর্যায়ে নতুন একটি কাবিন নামা দেখিয়ে জোর করে তালাকনামায় সাক্ষর করিয়ে নেয়। একই সাথে তার কাছ থেকে নগদ ৬ হাজার টাকা ও একটি সোনার আংটি ছিনিয়ে নিয়ে তাকে তাড়িয়ে দেয়। এই বিষয়টি লোকজানাজানি বা পুলিশকে জানালে প্রাণে শেষ করে দেয়া হবে বলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। পরে তার পরিবারের কাছে সংবাদ দিলে তার মা আঞ্জু বেগম যশোরে এসে তাকে উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ইসমাইল হোসেন বলেছেন, ‘আমার স্ত্রী অসুস্থ, তাই খালেদাকে বিয়ে করেছিলাম। কিন্তু বিয়ের এক সপ্তাহ পর জানতে পারি সে একজন চরিত্রহীন মানুষ, নৈতিক স্খলন তো আছেই, মাদকও বিক্রি করে থাকে। পরে বুঝতে পেরেছি ভুল করেছি। পরে আইন ও সরিয়া আইনেই তাকে তালাক দেয়া হয়েছে। দেকমোহরানার বিষয়ে তিনি বলেছেন, ৫ লাখ না, মাত্র ৫ হাজার টাকা দেনমোহরানা হয়েছিল। তার সাথে সারাজীবন কাটাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলাম যেখন ভাল হলো না, নানা মানুষের সাথে তার পরিচয় ও যোগাযোগ আছে: সে সময় বুঝেছি খালেদা ভাল হওয়ার নয়। বাধ্য হয়ে তাকে তালাক দেয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন