
যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলা অবৈধ তেল বাণিজ্য কোনোভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না। বিশেষ করে বাজারের পূর্ব প্রান্তকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রকাশ্যেই নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিদিন গভীর রাতে তেলবাহী গাড়ি থেকে গোপনে তেল নামানো হয়। পরে সেই তেল বিভিন্ন এলাকার অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হয়। পরবর্তীতে খুচরা পর্যায়ে আরও চড়া দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের কাছে। বর্তমানে বাজারে ১০০ টাকার ডিজেল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের সম্পূর্ণ বাইরে।
এদিকে বৈধ পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষক, পরিবহন চালক, ইজিবাইক ও ভ্যানচালকসহ সাধারণ মানুষ নির্ধারিত দামে তেল কিনতে না পেরে বাধ্য হচ্ছেন অতিরিক্ত দামে কিনতে। এতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ভাড়া বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল এই অবৈধ তেল ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকায় প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে সিন্ডিকেটটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
রূপদিয়া অঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে খুচরা বিক্রেতারা সুযোগ নিয়ে চড়া দামে ডিজেল ও পেট্রোল বিক্রি করছেন। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অবৈধ তেল সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি পাম্পগুলোর মাধ্যমে স্বচ্ছ ও নিরবচ্ছিন্ন তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন