
রেলভ্রমণকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক মনে করে প্রতিদিনই বাড়ছে যাত্রীর সংখ্যা। তবে সেই তুলনায় বাড়ছে না সেবার মান। যশোরের ঝিকরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে বগি স্বল্পতা ও মৌলিক সুবিধার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা।
স্টেশনটিতে প্রথম শ্রেণির কেবিনসংযুক্ত একটি শৌচাগার থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জন্য নেই কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা। এতে নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে।
এদিকে ট্রেনের বগি স্বল্পতার কারণে প্রতিদিনই যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। মাত্র পাঁচটি বগিতে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রীদের। অনেক ক্ষেত্রে টিকিট কাটার পরও ট্রেনে উঠতে না পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। বাধ্য হয়ে অনেক যাত্রী শেষ পর্যন্ত সড়কপথে যাত্রা করছেন।
বিশেষ করে ঈদ যাত্রাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও পর্যটকদের অতিরিক্ত চাপের কারণে ট্রেনে তিল ধারণেরও ঠাঁই থাকে না। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে।
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, খুলনা-বেনাপোল ও মংলা-বেনাপোল রুটে চলাচলকারী আপ-ডাউন ট্রেনগুলোতে অন্তত আরও দুটি করে বগি বৃদ্ধি করা হলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল সোয়া ৬টায় খুলনা থেকে বেনাপোলগামী ৫৩ আপ ট্রেন ছেড়ে এসে সকাল সোয়া ৮টায় পৌঁছায়। এরপর বেনাপোল থেকে সকাল ৯টায় ৫৪ ডাউন ট্রেন মংলার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় পৌঁছে। মংলা থেকে বেলা ১টায় ৯৫ আপ ট্রেন বেনাপোলের উদ্দেশ্যে ছেড়ে এসে বিকাল সাড়ে ৪টায় পৌঁছায়। পরে বেনাপোল থেকে বিকাল ৫টায় ৫৪ ডাউন ট্রেন খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় পৌঁছে।
এছাড়া, ঢাকার কমলাপুর থেকে ছেড়ে আসা বেনাপোল এক্সপ্রেস (৭৯৬ ডাউন) সকাল সাড়ে ৬টায় বেনাপোল পৌঁছায় এবং সেখান থেকে ৭৯৫ আপ ট্রেনটি দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে রাত ৮টায় পৌঁছে।
যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মন্তব্য করুন