
সময় যেন এক নিরন্তর নদী। তার ঢেউয়ে ভেসে যায় দিন, বছর, ইতিহাস। মনে হয় এইতো কয়েকদিন আগের কথা, কিন্তু দেখতে দেখতে পার হয়ে গেল ২৭টি বছর। গৌরব, সংগ্রাম আর অদম্য প্রত্যয়ের দীপ্ত পদচারণায় আজ ২৮বছরে পা রাখলো গ্রামের কাগজ। ১৯৯৯ সালের ২৬ মার্চ। পেছনে তাকালে ভেসে ওঠে এক স্মরণীয় সকাল। মহান স্বাধীনতা দিবসে জন্ম নিয়েছিল এক স্বপ্ন। মাটির গন্ধমাখা সেই স্বপ্ন ছিল সহজ, অথচ গভীর। অঙ্গীকার ছিল তৃণমূলের অবহেলিত জীবনের না-বলা গল্প তুলে আনা, নির্যাতিতের পাশে দাঁড়ানো, আর অন্যায়ের অন্ধকারে একটি প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা; সাহস নিয়ে কলমকে জাগ্রত করা।
গ্রামের কাগজের দীর্ঘ এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। প্রতিটি ধাপে ছিল বাধা, প্রতিকূলতা, অনিশ্চয়তা। কিন্তু কখনো থেমে যাইনি আমরা। সীমিত সামর্থ্য, নানা চ্যালেঞ্জ আর কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে গ্রামের কাগজ। এভাবেই তৈরি হয়েছে শক্ত ভিত। দক্ষিণ-পশ্চিম জনপদসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং দেশ বিদেশের অগণিত পাঠকের কাছে এখন প্রিয় এবং নন্দিত গ্রামের কাগজ। ঝুলিতেও জমা হয়েছে নানা পুরস্কার, নানা স্বীকৃতি। এসব অর্জনের জন্যে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা জানাই আমাদের প্রাণের পাঠক, গ্রাহক , বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভান্যুধায়ীদের। তাদের আস্থা, ভালোবাসা আর নিরবচ্ছিন্ন সঙ্গই আমাদের পাথেয়। কৃতজ্ঞতা জানাই ডিজিটাল দুনিয়ার সেই অগণিত দর্শককে, যারা প্রতিদিন আমাদের সাথে যুক্ত থেকে গ্রামের কাগজের সদস্য তালিকা দীর্ঘ করে চলেছেন। সময়ের সাথে বদলেছে প্রযুক্তি, বদলেছে মাধ্যম। প্রিন্ট ভার্সনের পাশাপাশি গ্রামের কাগজ এসেছে ডিজিটাল পর্দায়। তবু গ্রামের কাগজের মূল সুর একটাই রয়েছে: সত্যের পক্ষে, মানুষের পক্ষে। বিগত বছরগুলোতে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনসহ নানা খবর শুধু খবর হয়েই থাকেনি, তা হয়েছে প্রশ্ন, হয়েছে আন্দোলন, হয়েছে পরিবর্তনের সূচনা। কখনও প্রশাসনের টেবিলে নাড়া দিয়েছে, কখনও নিভে যাওয়া আশায় জ্বালিয়েছে নতুন প্রদীপ। এভাবেই গ্রামের কাগজের শিকড় বিস্তৃত হয়েছে তৃণমূল মানুষের হৃদয়ে। বর্তমান সময়ে সংবাদমাধ্যম এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। বিভাজন ও বিভ্রান্তির ভেতর সত্য উচ্চারণই কঠিন হয়ে পড়ছে। এর সাথে ভুয়া এবং অপতথ্যের বিস্তার, রাজনৈতিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক চাপ এবং প্রযুক্তিগত রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এই বাস্তবতায় সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিশ্চয় অনেক বেশি।
বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির অস্থিরতার নানা প্রভাব নিয়েও দুশ্চিন্তা-শঙ্কার মধ্যে রয়েছে দেশের মিডিয়াগুলো। বর্তমান বাস্তবতায় দেশ-সমাজ-অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ আমাদেরকেও স্পর্শ করেছে। তবু আমরা আশাবাদী স্থিতিশীলতা আসবে, সবক্ষেত্রে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে। তখন হয়তো মিডিয়ার সুদিনও ফিরবে। এই নতুন বছরে, নতুন অভিযাত্রায় আমাদের অঙ্গীকার আরও দৃঢ়। গ্রামের কাগজকে আমরা নিয়ে যেতে চাই আরও আধুনিক, আরও নির্ভরযোগ্য ও পাঠকবান্ধব এক উচ্চতায়। ইতোমধ্যে আমাদের প্রিন্ট, অনলাইন, ই-পেপার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে সাড়া পেয়েছি, সেটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে কাজ চলছে। বরাবরের মতো আপনাদের ভালোবাসা, সমর্থন আর গঠনমূলক পরামর্শই আমাদের এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগাবে। দেশ, সমাজ ও পাঠকেরর প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা অটুট থাকবে আজ, আগামীকাল এবং তারপরেও।
মন্তব্য করুন